তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা আপাতত বন্ধ। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে লড়াই থামাননি মহম্মদ শামি। ৩৬ বছর বয়সেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সদ্য সমাপ্ত দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও নিয়েছেন। তবু শামির দিকে নজর পড়ছে না নির্বাচকদের!
তবে শামির পাশেই রয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। নিজের উদাহরণ টেনে এনে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন শামির ঘটনাটা অস্বাভাবিক নয়।
বাংলার তারকা পেসারকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ বলে অভিহিত করে সৌরভ বলেন, ‘শামির জন্য যে বিষয়টা আমাকে সবচেয়ে বেশি খুশি করে, তা হল ও দিনের পর দিন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে এবং পারফর্ম করছে। এটা দারুণ ব্যাপার। ও অনেক কিছু অর্জন করেছে’।
নিজের কেরিয়ারের উদাহরণ টেনে সৌরভ বলেন, ‘ও এক জন অসাধারণ চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ক্রিকেটারদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমনটা হয়। আমাকেও এক বার এক দিনের বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তখন আমার ১০ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রান ছিল। আমিও ফিরে আসার রাস্তা খুঁজে নিয়েছিলাম। এটা সবার সঙ্গেই হয়’।
আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে শামির দলে থাকা উচিত কি না, সেই প্রশ্নের অবশ্য কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করতে চাননি সৌরভ। তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘সে এখন অনেক দূরের ব্যাপার। আমি মন্তব্য করতে পারব না। আগামী বছরের অক্টোবরে বিশ্বকাপ। এখনও অনেক সময় বাকি’।
অন্যদিকে, দলীপ ট্রফিতে ইশান কিষানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁর সামনে নতুন করে টেস্ট দলের দরজা খুলে দিয়েছে। পূর্বাঞ্চল অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে ২৭০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। সেই কারণেই তাঁর টেস্ট দলে ফেরার দাবি জোরালো হয়েছে বলে মনে করেন সৌরভ।
ইশানের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে বলে জানান সৌরভ। বলেন, ‘ইশানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওর ব্যাপারটা দারুণ এবং অসাধারণ। প্রত্যেক তরুণ ক্রিকেটারই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চায়। আশা করি, ইশানও খেলবে। বিজয় হজারে, সৈয়দ মুস্তাক আলি এবং দলীপ ট্রফি— তিনটে টুর্নামেন্টের ফাইনালেই ও অসাধারণ খেলেছে’।
টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্বের কথা ফের মনে করিয়ে দিয়ে সৌরভ বলেন, ‘কোনও তরুণ ক্রিকেটার ভাল পারফর্ম করলে তার কাছে টেস্ট ক্রিকেট গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। তাদের টেস্ট খেলতে চাওয়ার ইচ্ছা থাকা দরকার। আশা করি, ইশানও সেই সুযোগ পাবে। বড় ম্যাচে ও রান করে— বিজয় হজারে, মুস্তাক আলি, দলীপ ট্রফি, সব ফাইনালেই রান করেছে’।
ঈশান শেষ বার ভারতের হয়ে টেস্ট খেলেছিলেন ২০২৩-এর জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। তার পর জাতীয় দল থেকে দূরে থাকা, ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে আসা—সব মিলিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পরে এখন ফের টেস্টের দরজায় কড়া নাড়ছেন ঝাড়খণ্ডের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
অন্য দিকে, শামিও থামছেন না। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ভারতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন, পারফর্ম করছেন। দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলকে ১৪ বছর পরে চ্যাম্পিয়ন করতেও তাঁর অবদান যথেষ্ট। সৌরভের বার্তা তাই স্পষ্ট— শামির লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি।




