দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসবাদী হামলায় গুলিবিদ্ধ দ্বিতীয় পরিযায়ী শ্রমিকেরও মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর নাম ভূপেন্দ্র কুমার। শুক্রবার সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত দীপক কুমার রাতরের মতো ভূপেন্দ্রও ছত্তীশগড়ের বাসিন্দা।
সরকারি সূত্রে খবর, ভূপেন্দ্র শুক্রবার রাতে বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তিনি মারা যান।এর আগে একই হামলায় ছত্তীশগড়ের আরেক শ্রমিক দীপক ঘটনাস্থলেই মারা যান। কুলগামের কেল্লাম এলাকায় একটি ইটভাটায় কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।পুলিশের মতে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন জঙ্গিরা শ্রমিকদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে অন্ধকারের সুযোগ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর নিরাপত্ত বাহিনী দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। শনিবারও সেই অভিযান চলছে। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্ত ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অমরনাথ যাত্রা উপলক্ষে নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করে তাদের নির্মূল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদীরা ছাড় পাবে না। ওদের নির্মূল করা হবে।‘ সেই সঙ্গে তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন এবং সমগ্র দেশ শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির পাশে রয়েছে।‘
পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লশকর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)এর পিছনে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ২৫ জন পর্যটক-সহ এক স্থানীয় বাসিন্দা। প্রথমে লশকরের ছায়া সংগঠন দায় স্বীকার করলেও পরে সংগঠনের নামে প্রকাশিত অন্য একটি বিবৃতিতে সেই দায় অস্বীকার করে। পহেলাগাম কাণ্ডে তাদের হাত নেই বলে জানায়।




