রক্তদান শিবির কর্মসূচি করে সংগ্রহ করা রক্ত পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে আগেই শোরগোল পড়েছিল। কোনও অনুমতি ছাড়াই টাকার বিনিময়ে রক্ত-প্লাজমা পাচার হয়ে যাচ্ছে ভিনরাজ্যে বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে হাতে-গরম প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। আর তারপরই পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন ব্লাড ব্যাঙ্ক যুক্ত এই দুর্নীতিতে সেটা জানতে শুরু হয়েছে অনুসন্ধান। ওই অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্ককে রক্তদান শিবির না করার নির্দেশ দিল স্বাস্থ্যদপ্তর।
ওই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর কোনও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা যাবে না। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। যতক্ষণ না তদন্ত শেষ হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। রাজ্যের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ করা হয়েছে ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের নামও। ওই ১১ ব্লাড ব্যাঙ্ক আপাতত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির করতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল জারি করেছে এই নির্দেশ। তবে সেন্টারগুলি নিজ হাসপাতাল অথবা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে সরকারি নিয়ম মেনে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে।
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির উপর ১ আগস্ট থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এদের বিরুদ্ধেই রক্তদান শিবির আয়োজন করে একাধিক অনিয়ম, টাকার বিনিময়ে রক্ত-প্লাজমা বাইরে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তদন্ত করছে স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল। তবে প্রতিষ্ঠানের অন্দরে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা যাবে দক্ষ, প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে এবং যাবতীয় নিয়ম মেনে। রাজ্যের মধ্যে কোথাও রক্তের কোনও বড় লেনদেন হলেই সেটা দ্রুততার সঙ্গে পর্ষদকে তৎক্ষণাৎ জানাতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। রক্ত এবং রক্তের উপাদান ট্রান্সফার করতে হলে স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলকে জানানো বাধ্যতামূলক। আর ভিনরাজ্যে পাঠালে অনুমতি নিতে হবে ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের।
তাছাড়া রক্তদান শিবিরে অনিয়ম এবং রক্ত দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তল্লাশি অভিযান করেন আধিকারিকরা। কলকাতা এবং জেলার একাধিক জায়গায় হানা দেন তাঁরা। গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষা করেন। সেটার প্রেক্ষিতেই এবার ১১টি ব্লাড সেন্টারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। যে সমস্ত ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে সেগুলি হলো-এন্টালির লাইফ কেয়ার ব্লাড সেন্টার, যোধপুর পার্কের অশোক ল্যাবরেটরি ব্লাড সেন্টার, আলিপুরের কোঠারি মেডিক্যাল ব্লাড সেন্টার, বেলেঘাটার ওম ব্লাড সেন্টার হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার, সোনারপুরের কালিকাপুর এলাকার ইস্পাত কোঅপারেটিভ হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার, প্রন্নথ পণ্ডিত স্ট্রিটের হেল্থ পয়েন্ট হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার, হাওড়া পুরসভা ভবনের এইচএমসি রাটারি ব্লাড সেন্টার, নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কৃষ্ণনগর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের ব্লাড সেন্টার, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের উপসম ওম ব্লাড সেন্টার, পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের টেরেসা ওম ব্লাড সেন্টার এবং পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডাল মোড়ের রানিগঞ্জ ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস।




