বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের তথাকথিত ‘এনকাউন্টার’-কে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে সেই ঘটনাটি রুখতে চার দিন আগেই পুলিশকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। এবার সেই দাবি তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল আরও একটি নতুন জনস্বার্থ মামলা। মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্রের পক্ষ থেকে দায়ের হওয়া এই মামলায় বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এর মধ্যে প্রভাস মণ্ডল ছিল অন্যতম। প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। অভিযোগ, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। এমনকী অভিযুক্ত প্রভাস পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালান বলে অভিযোগ। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে প্রভাসের মৃত্যু হয় বলে দাবি পুলিশের।
এই ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা বিচারাধীন। সেই মামলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে ১৮ অগাস্ট।
শনিবার দায়ের হওয়া নতুন মামলায় মামলাকারীর আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী আদালতে জানান, গত ৪ জুলাই অর্থাৎ ঘটনার চার দিন আগে, কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী বারুইপুর থানার ওসির কাছে লিখিতভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু ঘটতে পারে। অভিযোগ, সেই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পুলিশ কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। চার দিন পরই প্রভাসের ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যু হয়। তাই গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কমলো বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম, স্বস্তিতে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, বারুইপুর এনকাউন্টারের ঘটনা নিয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা ইতিমধ্যেই বিচারাধীন। সেই মামলাগুলিতে জেলা পুলিশ সুপারের রিপোর্টও তলব করা হয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, নতুন এই জনস্বার্থ মামলাটিও আগামী ১৮ অগাস্ট বারুইপুর এনকাউন্টার সংক্রান্ত অন্যান্য মুলতুবি মামলার সঙ্গে একযোগে শুনানি হবে।




