• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 1 August, 2026

ভারতের জার্সিতে মহম্মদ শামির কেরিয়ার কি শেষ? প্রধান নির্বাচকের কথায় তেমনই ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক দল নির্বাচনের ধারা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেখে এই ইহ্গিতই স্পষ্ট যে, ভারতীয় ক্রিকেটে প্রজন্ম বদলের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আর সেই পরিবর্তনের ঢেউয়ে শামির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে।

ভারতের জার্সিতে মহম্মদ শামির কেরিয়ার কি শেষ? প্রধান নির্বাচকের কথায় তেমনই ইঙ্গিত

Photo: X

ভারতের জার্সিতে কি আর দেখা যাবে না মহম্মদ শামিকে?

জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। ভারতীয় ক্রিকেটে আগামী দিনের পরিকল্পনা তৈরি করতে নেমে নির্বাচকরা নাকি ইতিমধ্যেই ১৫ জন তরুণ পেসারকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করে ফেলেছেন। সেই তালিকায় নেই বাংলার এই অভিজ্ঞ পেসারের নাম। যা নিয়ে স্পষ্ট বলেও দিয়েছেন নির্বাচকদের প্রধান অজিত আগারকর।

সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭-এ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে নতুন পেস আক্রমণ গড়ে তুলতেই জোর দিচ্ছেন নির্বাচকরা। তাঁদের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন তরুণ ফাস্ট বোলাররা। ৩৫ বছর বয়সি শামিকে সেই দীর্ঘমেয়াদি ভাবনায় রাখা হয়নি বলেই খবর।

অর্থাৎ, সম্প্রতি দলীপ ট্রফির জন্য বাছা পূর্বাঞ্চল স্কোয়াডে শামির নাম দেখে যাঁরা ভেবেছিলেন, বঙ্গ পেসারকে ফের ভারতীয় দলে ফেরার রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার জন্যই তাঁকে এই দলে রাখা হয়েছে, তাদের সেই ভাবনা যে ঠিক না, তেমনই জানিয়ে দিয়েছেন অজিত আগারকর। দলীপে যদি শামি ধারাবাহিক ভাবে একের পর এক অসাধারণ স্পেল করতে শুরু করে দেন, একমাত্র তা হলেই হয়তো তাঁকে জাতীয় দলে ডাকার কথা ভাবতে পারেন নির্বাচকেরা। না হলে হয়তো ধরে নিতেই হবে, শামির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে পূর্ণচ্ছেদ পড়ে গিয়েছে। এখন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলের বাইরে আর বেরনোর কোনো রাস্তা খোলা নেই তাঁর সামনে।

কী বলেছেন অজিত আগারকর?

মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছেন, ‘সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে আমরা ভবিষ্যতের জন্য ১৫ জন পেসারকে বেছে নিয়েছি। আগামী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তরুণ বোলারদের প্রয়োজনীয় সুযোগ দিতে আমরা প্রস্তুত। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মহম্মদ শামি নেই। ভারতের হয়ে তিনটি ফরম্যাটেই ও অসাধারণ পারফর্ম করেছে। বিশেষ করে আইসিসি টুর্নামেন্টগুলিতে দলের সাফল্যে ওর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। কিন্তু একটা সময় তো এগিয়ে যেতেই হয়। সব কিছুরই একদিন শেষ আছে। এই মুহূর্তে তাই ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় আমরা শামিকে বিবেচনা করছি না। তবে ওর পুরো কেরিয়ার জুড়ে দেশের জন্য যে লড়াই এবং অবদান শামি রেখেছে, তার প্রতি আমার সব সময়ই গভীর শ্রদ্ধা থাকবে’। আগারকরের এই বক্তব্যের পর একজন সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা মনে আর কী আসতে পারে?

শামি ভারতের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৫-এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। রঞ্জি ট্রফিতে ৩৭টি উইকেট নিয়ে নিজের ফিটনেস ও ধার প্রমাণ করলেও জাতীয় দলে আর ডাক পাননি। শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দলেও তাঁর নাম না থাকায় জল্পনা আরও বেড়েছে।

ভারতের পেস আক্রমণের নেতৃত্বে এখনও যশপ্রীত বুমরা রয়েছেন। তবে তাঁর ওয়ার্কলোড সামলাতে দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প তৈরি করাই এখন নির্বাচকদের অগ্রাধিকার। মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, হর্ষিত রানা-সহ একাধিক তরুণ পেসার ইতিমধ্যেই সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি ময়াঙ্ক যাদব, গুরনুর ব্রার, প্রিন্স যাদব, রশিখ সালাম, কার্তিক ত্যাগীদের মতো ক্রিকেটারদেরও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর মধ্যে আবার রবিচন্দ্রন অশ্বিন দাবি তুলেছেন, ২০২৭ বিশ্বকাপে ভুবনেশ্বর কুমারকে ভারতীয় দলে রাখা উচিত। এক ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচক হলে ওর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতাম এবং যাতে ও সব প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট, বিজয় হাজারে ট্রফি-সহ সমস্ত ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতাম। যাতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ওকে সেরা ছন্দে ফিরিয়ে আনা যায়’। ওয়ান ডে বিশ্বকাপের জন্য যে স্কোায়াড তৈরি করেছেন অশ্বিন, তাতে শামিকেও দরকার হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

তাঁর এই দলের অবধারিত ক্রিকেটাররা হলেন, গিল, রোহিত, বিরাট, আইয়ার, রাহুল, ইশান, হার্দিক, অক্ষর, কুলদীপ, বুমরাহ, সিরাজ, হর্ষিত ও ভুবনেশ্বর। শামিকে স্ট্যান্ড বাই হিসেবে রাখা যেতে পারে বলে মনে করেন প্রাক্তন স্পিনার-অলরাউন্ডার অশ্বিন।

যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা নির্বাচক কমিটির তরফে শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি। তবে সাম্প্রতিক দল নির্বাচনের ধারা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেখে এই ইহ্গিতই স্পষ্ট যে, ভারতীয় ক্রিকেটে প্রজন্ম বদলের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আর সেই পরিবর্তনের ঢেউয়ে শামির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে।