পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে বা পিওজেকে-তে নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যেই ভয়াবহ হিংসার অভিযোগ উঠল। বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনায় সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ইসাবেল লাসি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাওয়ালকোট থেকে পাওয়া খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।’ তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনা পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে বিক্ষোভ দমনের দীর্ঘ ইতিহাসের ধারাবাহিকতা।
অধিকৃত কাশ্মীরে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। সংস্থার বক্তব্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অবিলম্বে যোগাযোগ পরিষেবা চালু করা এবং সংবাদমাধ্যম ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের ওই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
অধিকৃত কাশ্মীরে তিন দফা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ছিল সোমবার। ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক জায়গায় অশান্তির খবর মেলে। রাওয়ালকোট ও কোটলির মতো এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রের কাছে সংঘর্ষ, ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়া এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি-র নেতৃত্বে গত ৫২ দিন ধরে রাওয়ালকোটে আন্দোলন চলছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর পুলিশ আচমকাই গুলি চালায়। ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন। জেএএসি-র দাবি, নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে ২০ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন মানুষ আহত হয়েছেন। যদিও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং নিজেদের দাবিদাওয়া পূরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। অধিকৃত কাশ্মীরে জেএএসির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অ্যামনেস্টি। সংস্থার অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার, ভয় দেখানো এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অ্যামনেস্টির বক্তব্য, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার কারণে ঘটনাস্থলের প্রকৃত ছবি সামনে আসছে না। এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।




