সুপ্রিম কোর্টে নতুন মামলার জরুরি তালিকাভুক্তির আবেদন বা ‘মেনশনিং’-এর সময় ভার্চুয়াল ভিডিও কনফারেন্সের অডিও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ফলে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার চললেও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে আইনজীবীদের আবেদন এবং আদালতের তাৎক্ষণিক মৌখিক প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যম আর সরাসরি শুনতে পারবেন না।
বুধবার প্রধান বিচারপতি এই নির্দেশ দেন। তিনি জানিয়েছেন, জরুরি মামলার উল্লেখ বা দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এটি বিচার সংক্রান্ত মূল কার্যপ্রণালীর অংশ নয়। তাই এই পর্বের কথোপকথন সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়। শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মামলার বিচার সংক্রান্ত শুনানি এবং জরুরি তালিকা নির্ধারণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি হল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও মামলায় দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হলে আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ‘মেনশনিং’ করে থাকেন। এই প্রক্রিয়ায় আইনজীবীরা মামলার জরুরি পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং আদালত সিদ্ধান্ত নেয় বিষয়টি দ্রুত শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না। এতদিন এই পর্বের ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে অডিও-ও শোনা যেত। ফলে আইনজীবীদের আবেদন এবং বেঞ্চের তাৎক্ষণিক মন্তব্য অনেক সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এর আগেই জানিয়েছিলেন, কোনও মামলা দ্রুত তালিকাভুক্ত করার আবেদন আদালতের প্রশাসনিক কাজের অংশ। এটি মূল বিচারপ্রক্রিয়ার মতো নয়। বুধবারের নির্দেশের মাধ্যমে সেই অবস্থানই কার্যকর করা হল। সম্প্রতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মেনশন করা হয়েছিল। মামলা মূল শুনানির তালিকায় ওঠার আগেই বেঞ্চের মৌখিক পর্যবেক্ষণ সংবাদমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছিল। আদালতের মতে, এতে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
গত ২২ জুলাই প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন ঘিরে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলার দ্রুত শুনানির আবেদনও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মেনশন করা হয়েছিল। সেই সময় বেঞ্চ জানিয়েছিল, বিষয়টি বিবেচনার আগে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া দরকার। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, মেনশনিং চলাকালীন লাইভ ভিডিও দেখা গেলেও অডিও শোনা যাবে না। তবে নিয়মিত বিচার সংক্রান্ত শুনানি বা আদালতের অন্যান্য কার্যক্রমের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে আদালতের মূল বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক কাজের গোপনীয়তা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




