প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কঠোর আইন, সাংবাদিক নিগ্রহ এবং সাম্প্রতিক আন্দোলন-সহ একাধিক ইস্যুতে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কার্গিল বিজয় দিবসে শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানাতে রবিবার নন্দীগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে সাংবাদিকদের হেনস্থার কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতায় সাংবাদিকদের হেনস্থার ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নন্দীগ্রামে অস্থায়ী শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ কার্গিল দিবস। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করার দিন। নন্দীগ্রামে অস্থায়ী শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। গোটা দেশ গর্বের সঙ্গে কার্গিল বিজয় দিবস পালন করছে।’ উল্লেখ্য, নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত ২৪ জুলাই কলকাতার ধর্মতলায় আন্দোলনের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই কর্মসূচিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সদস্য-সমর্থক-সহ বহু সাধারণ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। মিছিল চলাকালীন পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এর পাশাপাশি, কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরও লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ।
সেদিনের সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের শাসনের মধ্য দিয়েই গুণ্ডাদের দমন করা হবে। বাক্স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সকলের থাকবে। কিন্তু যারা সাংবাদিকদের পিটিয়েছে, খুন করার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গুণ্ডাদমন আইনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’
সেই সঙ্গে সেদিনের আন্দোলন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওটা বামেদের মিছিল ছিল না। সেলফ-ডিক্লারেড ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল ছিল। তাঁর দাবি, এই আন্দোলনের পিছনে বিদেশি শক্তির মদত থাকতে পারে।’ এর পাশাপাশি রবিবার শুভেন্দু বলেন, ‘বাংলায় সাংবাদিকরা আগেও বহুবার আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এই প্রথম সাংবাদিকরাই নিজেরা মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে ১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এরা কেউ ছাত্র নয়, সবাই জামাতি ও মৌলবাদী।’
নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদের আঁচ দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের অন্যান্য জায়গায় পড়তেই শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রের পদক্ষেপের প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ ধরনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী। তাঁর কথায়, ‘শুধু কঠোর আইন আনা নয়। সেই আইন দ্রুত কার্যকর করার জন্যও ফাস্ট-ট্র্যাক ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’ আন্দোলনকারীদেরও তাঁর উপর আস্থা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।




