ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে টানা ব্যর্থতার ধাক্কা এখনও কাটেনি। সাতটি টি-২০ ম্যাচ খেলেও একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি ভারত। সমালোচনার ঝড় বইছে চারদিকে। কিন্তু সেই আবহেই দলের ক্রিকেটারদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার— ভয় নিয়ে খেললে চলবে না, ভয়ডরহীন ক্রিকেটই ভারতের একমাত্র পথ।
বৃহস্পতিবার থেকে হারারেতে শুরু হচ্ছে ভারত-জিম্বাবোয়ে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের হতাশা ভুলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এটাই ভারতের সামনে বড় সুযোগ। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ শুরুর আগে শ্রেয়স স্বীকার করে নিয়েছেন, ইংল্যান্ড সফর মোটেও সুখকর ছিল না। তবে সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে এগোতে চাইছে দল।
বুধবার সাংবাদিকদের ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘ইংল্যান্ডে আমাদের সময়টা ভালো কাটেনি। কিন্তু সেই সফর থেকে অনেক ইতিবাচক দিকও পেয়েছি। দল হিসেবে ভবিষ্যতে কীভাবে এগোতে হবে, মাঠে নেমে কী ধরনের উপস্থিত বুদ্ধি, সচেতনতা এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োজন— তা আমরা বুঝতে পেরেছি’।
সমালোচনার চাপ যে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তা মানছেন ভারত অধিনায়ক। তবে সেই ভয় কাটিয়ে ওঠাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। শ্রেয়সের কথায়, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভয়হীন ক্রিকেট খেলা। যখন মনে কোনও ভয় থাকে না, তখনই নিজের সেরাটা বের করে আনা সম্ভব’।
ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে একের পর এক পরাজয় সত্ত্বেও দলের ড্রেসিংরুমে হতাশার প্রবেশ ঘটেনি বলেই দাবি করেছেন তিনি। বরং কঠিন সময় দলের ক্রিকেটারদের আরও কাছাকাছি এনে দিয়েছে। ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘এই কঠিন সময় আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি, কোথায় ভুল হয়েছে তা বুঝেছি এবং সেগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করছি’।
ইংল্যান্ড সফর শেষ করেই সরাসরি জিম্বাবোয়েতে পৌঁছনোর পর মাত্র একটি অনুশীলন সেশন করেই সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা যে নিঃসন্দেহে কঠিন চ্যালেঞ্জ, অধিনায়ক তা স্বীকার করেন।বলেন, ‘নিশ্চয়ই এটা খুব কঠিন। আমরা গতকাল এখানে পৌঁছেছি, আজ অনুশীলন করছি আর আগামীকালই ম্যাচ। তবে এটাই ক্রিকেটের মজা। এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে যদি ভালো পারফর্ম করতে পারি, তাহলে নিজের উপরই গর্ব হবে এবং সেই তৃপ্তিটা অন্যরকম’।
ভারতের হয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে অভিষেক হলেও বৈভব সূর্যবংশীর প্রথম আন্তর্জাতিক সফর প্রত্যাশিত হয়নি। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে সাফল্য পাননি তিনি। তবে শ্রেয়স আইয়ারের বিশ্বাস, এই সফরের অভিজ্ঞতা বৈভব-সহ দলের অন্যান্য তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতে আরও পরিণত করে তুলবে।
শ্রেয়স বলেন, ‘দলের সব তরুণ ক্রিকেটারই অনুশীলন করেছে। টি-২০ সিরিজের পর বেশ কিছুটা সময়ও পেয়েছিল ওরা। তাই ও (বৈভব) নিশ্চয়ই বুঝে নিয়েছে কোথায় ভুল হয়েছিল এবং সেগুলো শুধরে নিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ওকে আমার খুব বেশি পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না’।
৩১ বছর বয়সি শ্রেয়স জিম্বাবোয়ে দলকেও যথেষ্ট সমীহ করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের দলে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁদের আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে জিম্বাবোয়েকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
শ্রেয়স বলেন, ‘ওদের দলটা দুর্দান্ত। ব্যাটিং লাইন-আপও খুব ভালো। ওদের কয়েকজন ক্রিকেটার আইপিএলেও খেলেছে। তাই ওদের দলে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে’।




