• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 12 September, 2026

ওপেন করবেন কারা? খেলবেন ইশান কিষাণ? কোচের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া কেমন? সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন শ্রেয়স

দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগেই ভারতীয় সাজঘরের অন্দরমহলের ছবি কিছুটা পরিষ্কার করে দিলেন অধিনায়ক

ওপেন করবেন কারা? খেলবেন ইশান কিষাণ? কোচের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া কেমন? সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন শ্রেয়স

দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগেই ভারতীয় সাজঘরের অন্দরমহলের ছবি কিছুটা পরিষ্কার করে দিলেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ের ধরন নিয়ে নানা সময়ে নানা মত শোনা গেলেও, জাতীয় দলের হেড কোচের ‘ম্যান-ম্যানেজমেন্ট’ দক্ষতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ শ্রেয়স। তাঁর মতে, প্রত্যেক ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাদা ভাবে সম্পর্ক তৈরি করে তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেন গম্ভীর।

গম্ভীরের সঙ্গে শ্রেয়সের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪-এ কলকাতা নাইট রাইডার্সে একসঙ্গে কাজ করেছেন দু’জন। সেই অভিজ্ঞতাই এখন ভারতীয় ড্রেসিং রুমে অধিনায়ককে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। শ্রেয়স বলেন, ‘গম্ভীর দলের মধ্যে অনেকটা বিশ্বাস এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করেন। প্রত্যেক ক্রিকেটার জানে, দলের জন্য তার ভূমিকা কী এবং কী করতে হবে। কোচিংয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলিই খুব গুরুত্বপূর্ণ’।

গম্ভীরের ব্যক্তিগত ভাবে ক্রিকেটারদের সামলানোর পদ্ধতিটাও শ্রেয়সের বেশ পছন্দ। তাঁর কথায়, ‘ওর এক জন ক্রিকেটারকে আলাদা করে বোঝার এবং সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। সামনে এগিয়ে যেতে হলে প্রত্যেক ক্রিকেটারের সঙ্গে এই ধরনের সম্পর্ক থাকা খুব জরুরি। কারণ প্রত্যেকেই নিজের নিজের জায়গায় আলাদা। একজন ক্রিকেটারকে বুঝতে গেলে তাঁর ব্যক্তিত্বটাও বুঝতে হয়’।

শ্রেয়স আরও বলেন, ‘আমি এর আগে কেকেআরে ওর সঙ্গে কাজ করেছি। তাই ও কী ভাবে এবং কী ভাবে কাজ করতে চায়, সেটা আমি ভালমতোই জানি। আমরা যত বেশি ম্যাচ জিতব, ততই একে অপরকে আরও ভাল করে বুঝতে পারব’।

শনিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে অধিনায়ক হিসাবে নিজের দর্শনও জানিয়ে দিলেন শ্রেয়স। ক্রিকেটারকে নির্দিষ্ট দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার বদলে তাঁকে দলের প্রয়োজনীয় সদস্য হিসাবে অনুভব করাতে চান তিনি।

শ্রেয়সের কথায়, ‘আপনি যখন কোনও ক্রিকেটারকে বলেন, ‘দলে এটাই তোমার ভূমিকা’, তখন তাঁর উপর অনেক চাপ তৈরি হয়। তার বদলে যদি বলা যায়, ‘এই বিশেষ ভূমিকায় দলের তোমাকে প্রয়োজন’, তা হলে ক্রিকেটার নিজেকে দলের জন্য প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মনে করে’।

চোট-আঘাত নিয়েও অধিনায়কের বক্তব্য বেশ স্পষ্ট। একের পর এক ম্যাচ খেলতে গিয়ে ক্রিকেটারের চোট পাওয়াকে দুর্ভাগ্য বলেই দেখছেন তিনি। শ্রেয়স বলেন, ‘এটা নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে, একজন ক্রিকেটার কতগুলি ম্যাচ টানা, প্রচণ্ড চাপের মধ্যে খেলছে। এত বেশি তীব্রতায় খেললে কোনও না কোনও ভাবে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে’।

এখানেই থামেননি তিনি। যোগ করেন, ‘কেউ ইচ্ছা করে চোট পেতে চায় না। দলের জন্য নিজের সেরাটা দিতে গিয়েই চোট লাগে। সেই চেষ্টা যদি শেষ পর্যন্ত নেতিবাচক ফল দেয়, সেটা তো আর ক্রিকেটারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না’।

 

 

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ওপেনিং নিয়েও মুখ খুলেছেন শ্রেয়স। সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা এবং বৈভব সূর্যবংশী—তিন জনের মধ্যে থেকে দু’জনকে বেছে নেওয়া কঠিন হলেও, অধিনায়ক মনে করছেন তিন জনই দলের সম্পদ।

তিনি বলেন, ‘যে ক্রিকেটারই সুযোগ পাবে, সেটা অবশ্যই দলের ভালর জন্য হবে। আর যারা বাইরে থাকবে, তাদের সঙ্গে আমার এবং কোচের কথা বলা এবং তাদের আত্মবিশ্বাস দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। যাই হোক না কেন, যখন তোমার দিন আসবে, তখন তুমি সুযোগ পাবেই’।

এ দিকে জসপ্রীত বুমরাহর প্রত্যাবর্তন নিয়েও আশাবাদী শ্রেয়স। তিনি জানিয়েছেন, আগের দিনই বুমরাহর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ‘ও এমন একটা মানসিকতায় রয়েছে যে দলের হয়ে খেলতে চায়, পারফর্ম করতে চায় এবং আমরা যাতে সিরিজ জিততে পারি, তা নিশ্চিত করতে চায়’, বলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক।

ইশান কিষানের ফিটনেস নিয়েও স্বস্তির খবর দিয়েছেন শ্রেয়স। সামান্য চোট বা ‘নিগল’-এর কারণে বিশ্রামে ছিলেন ইশান। শ্রেয়স জানান, ‘এই মুহূর্তে ইশান ভালই আছে। অনুশীলনের পর ওর সঙ্গে কথা বলেছি। ছোটখাটো সমস্যা হয়েছিল। ও টানা ক্রিকেট খেলছে। আমরা জানি, কী দুর্দান্ত ইনিংস ও খেলেছে। তাই কিছুটা ক্লান্তি ছিল। আজ বিশ্রাম পেয়েছে। আশা করছি, কাল ও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে’।