ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড আন্তর্জাতিক জঙ্গি এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়াল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। জম্মুর বিশেষ এনআইএ আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানে বসেই কাশ্মীরের সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র, অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করছে হাফিজ। এমনকি হামলার জন্য নির্দেশ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই গত দু’মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার হাফিজের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল আদালত।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে এনআইএ জানিয়েছে, পাকিস্তান-অধিকৃত পাঞ্জাবের সারগোধার বাসিন্দা হাফিজ সইদ ভারতের একাধিক নাশকতা মামলার পলাতক মূল অভিযুক্ত। কেন্দ্রীয় সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৭৫ নম্বর ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার সূত্রপাত শ্রীনগরের উপকণ্ঠে জাকুর থানার অন্তর্গত পান্ডাচ চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশিকে ঘিরে। বছরের গোড়ায় সেখানে সন্দেহভাজন নসিব ভাট ওরফে মহম্মদ নকিব ভাটকে আটক করে পুলিশ। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে একটি চিনা গ্রেনেড এবং ১৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়। এরপর ইউএপিএ, অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক পদার্থ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তভার নেয় এনআইএ। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে বড়সড় আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের ছবি। লস্কর-ই-তইবা এবং তাদের সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। অভিযানে ধরা পড়ে দুই চিনা নাগরিক এবং কয়েকজন পাকিস্তানি নাগরিকও।
ধৃত পাকিস্তানি জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদেই তদন্তকারীরা হাফিজ সইদের নাম জানতে পারেন বলে দাবি এনআইএর। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের নেপথ্যে থেকে গোটা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে লস্কর প্রধান।
পাকিস্তানে আত্মগোপন, অভিযোগ এনআইএর
বিশেষ আদালতে এনআইএ জানায়, হাফিজ সইদ বর্তমানে পাকিস্তানেই রয়েছে এবং সেখান থেকে কাশ্মীরের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে অত্যাধুনিক অস্ত্র, জাল নোট ও অর্থ জোগাচ্ছে। ধারাবাহিক হামলার জন্য নির্দেশ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভারতীয় আইনের হাত থেকে বাঁচতেই সে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেফতার এড়িয়ে পাকিস্তানে আত্মগোপন করে রয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক প্রেম সাগর পর্যবেক্ষণ করেন, তদন্তে হাফিজ সইদের নাম এবং তাঁর সক্রিয় ভূমিকা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সন্ত্রাসবাদী ও চরমপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে তাঁর যোগের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে আদালত উল্লেখ করে।
বিচারকের বক্তব্য, অভিযুক্ত পলাতক এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাঁকে আদালতে হাজির করানো সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হল।
দু’মাসে দ্বিতীয় পরোয়ানা
হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে এটি গত দু’মাসে জম্মুর বিশেষ এনআইএ আদালতের দ্বিতীয় জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা। এর আগে গত ৮ জুলাই পহেলগামে জঙ্গি হামলার মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম পরোয়ানা জারি হয়েছিল। গত বছরের এপ্রিলে হওয়া ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়।
হাফিজের বিরুদ্ধে বারবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় পাকিস্তানের উপর কূটনৈতিক চাপও বাড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক স্তরে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নিশানায় রয়েছে লস্কর প্রধান।




