• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 22 July, 2026

আসামের বন্যা প্রাণ কাড়ল ২১ জনের, ৫.৬৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

জেলা প্রশাসন ২৭৩টি ত্রাণ শিবির গড়ে তুলেছে। যেখানে ১.১৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

আসামের বন্যা প্রাণ কাড়ল ২১ জনের, ৫.৬৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

Photo: ANI

আসামের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সরকারি সূত্রের খবর, শুধু মঙ্গলবারেই ২১ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। আসামের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এএসডিএমএ)-র তরফে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতিতে আসামে মৃতের সংখ্যা ৩১-এর গণ্ডি ছাড়াতে পারে। এএসডিএমএ তরফে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিবসাগর জেলা থেকে ১৩ জন, চরাইদেও থেকে ৫ জন, গোলাঘাটে ২ জন ও জোরহাটে থেকে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

এএসডিএমএ-র তরফে আরও জানানো হয়েছে, ১৬টি জেলায় অন্তত ৫.৬৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই ১৬টি জেলার মধ্যে রয়েছে গোলাঘাট, কামরূপ, হোজাই, ডিব্রুগড়, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, শোনিতপুর, উদালগুড়ি, নগাঁও, চরাইদেও, কামরূপ মেট্রোপলিটন, জোরহাট, তিনসুকিয়া, কার্বি আংলং, লখিমপুর ও শিবসাগর। ইতিমধ্যেই ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর আধিকারিকেরা হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে দুর্গতদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। সেই সঙ্গে ৫০০-এরও বেশি মানুষকে তাঁরা উদ্ধার করেছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর জেলা। সেখানে ৩.৫৯ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোরহাটে ৮৭,৬৬২ জন, চরাইদেওতে ৭২,৬৪৬ জন, ডিব্রুগড়ে ১৮,৬১৫ জন ও গোলাঘাটে ১৬,৭৯৯ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এএসডিএমএ জানিয়েছে, বন্যার জলে ২৪,২১০.৩৫ হেক্টর জমি ডুবে গিয়েছে। জেলা প্রশাসন ২৭৩টি ত্রাণ শিবির গড়ে তুলেছে। যেখানে ১.১৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ব্রক্ষ্মপুত্রের দুই শাখা দিখৌ ও দেশংয়ের জলস্তর অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে এই জেলাগুলি বন্যার কবলে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এর আগে আমগুড়ি, টিওক, তিতাবড় কখনও এরকম বন্যার কবলে পড়েনি। পূর্ব আসামের জোরহাট, চরাইদেও ও মধ্য আসামের পাহাড়ি জেলা কার্বিং আংলং বন্যার কবলে পড়েছে।

আরও পড়ুন: আসামে ভাসল ৭৫৮ গ্রাম, মৃত ১১: বিপদসীমার উপরে ব্রহ্মপুত্র, বিচ্ছিন্ন হাওড়া-ডিব্রুগড় রেলপথ

চলতি মাসের মাঝামাঝি সিকিম ও ভুটান পাহাড়ে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের তিস্তা ও জলঢাকা নদীতেও জারি হয়েছিল কমলা সতর্কতা। গাজলডোবা ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পর জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের কিছু এলাকায় জারি হয়েছিল বন্যার সতর্কতাও। পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশ জুড়ে চলতি মরসুমের এই একটানা ভারী বর্ষণই আসাম ও উত্তরবঙ্গ দুই জায়গার নদীকেই বিপদসীমায় নিয়ে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর। আসামের বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বহু চা বাগান, যা উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স ও তরাইয়ের চা শ্রমিকদের কাছেও এক পরিচিত উদ্বেগের ছবি। ভারী বর্ষণে বছর বছর একই রকম সঙ্কটের মুখে পড়েন তাঁরাও।