• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 22 July, 2026

‘ফুটপাথে দুটো লাইন করে দোকান করা যাবে না’, কলেজ স্ট্রিট পরিদর্শনে বার্তা অগ্নিমিত্রার

এরপর সবটা দেখে কলেজ স্ট্রিট নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা জানান পুরমন্ত্রী। আর পুলিশ অফিসারদের কিছু নির্দেশও দেন

‘ফুটপাথে দুটো লাইন করে দোকান করা যাবে না’, কলেজ স্ট্রিট পরিদর্শনে বার্তা অগ্নিমিত্রার

Minister Agnimitra Paul Photo-SNS

নস্টালজিয়া ধরে রেখে কলেজ স্ট্রিটকে আধুনিক করতে চায় বিজেপি সরকার। বইপাড়া যাতে পৃথক আঙ্গিক পায় তার জন্য ওই পথে যানবাহন না চালানোর মতো ভাবনা-চিন্তা করছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। তবে সেখানে হকার উচ্ছেদ করতে চায় না বলে বার্তা দিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কলেজ স্ট্রিটকে ঢেলে সাজাতে পুরো ‘মেক ওভার’ হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এবার ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য বুধবার সকালে বইপাড়ায় পৌঁছে গেলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী। কলকাতা পুরসভার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এবং অফিসারদের সঙ্গে নিয়ে পুরো কলেজ স্ট্রিট চত্বর ঘুরে দেখলেন।

বইপাড়ায় এসে যাতে নিশ্চিন্তে বইপ্রেমীরা বই পড়তে পারে সে কথাও ভাবা হয়েছে। আর তাই কলেজস্ট্রিট এবং পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথের দোকানগুলি ঘুরে দেখলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। তখনই মালিকদের রীতিমতো ধমক দেন তিনি। তারপরই অগ্নিমিত্রার স্পষ্ট নির্দেশ, ‘ফুটপাথে দুটো লাইন করে দোকান করা যাবে না। কারণ পথচারীদের জন্য জায়গা ছেড়ে তবেই চালাতে হবে দোকান। কলেজ স্ট্রিটের একটা অংশ হবে নো ভেহিকেলস জোন। সেখানে গাড়ি চলবে না, হর্ন বাজবে না। বইয়ের দোকানগুলিকে সেখানে রিলোকেট করার পরিকল্পনা আছে। তবে মূল কলেজ স্ট্রিটের রাস্তায় আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। সাইকেল নিয়ে কেউ আসবেন না। এখান থেকেই সবাই সাইকেল নেবেন। আর যিনি হাঁটতে চান, তিনি হাঁটবেন। বয়স্কদের জন্য ব্যাটারি কার থাকবে।’

এদিন কলকাতায় সারপ্রাইজ ভিজিটে বের হন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একাধিক এলাকা ঘুরে দেখেন। নিকাশি-সহ নানা সমস্যা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। বুধবার সকালে প্রথমে কলেজস্ট্রিট এলাকায় এসে সবটা খতিয়ে দেখেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ঘুরে দেখেন ফুটপাথের দোকানগুলি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এমনকী তিনি চলে যান ধর্মতলা, পার্কস্ট্রিট চত্বরেও। একেবারে হাজির হয়ে যান ফুটপাতের খাবারের দোকানে। সেখানে এক মহিলার দোকানে দেখতে পেয়ে ঢোকেন পুরমন্ত্রী। আর দেখতে পান, ফুটপাতের উপর তিনটি জায়গা নিয়ে দোকান চালাচ্ছেন তিনি। এতেই ক্ষোভ উগরে দেন অগ্নিমিত্রা পাল। পুরমন্ত্রী সুর চড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি দুটি লাইন করে ফুটপাথে দোকান চালানো হয়, তাহলে পথচারীরা হাঁটবেন কোথা থেকে?’

এখানেই শেষ নয়, এরপর সবটা দেখে কলেজ স্ট্রিট নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা জানান পুরমন্ত্রী। আর পুলিশ অফিসারদের কিছু নির্দেশও দেন। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘কলেজ স্ট্রিট হলো বইপাড়া। শুধু বইয়ের দোকান থাকবে। নোট-প্যাডের দোকান থাকবে। খাতা-বইয়ের দোকান থাকবে। নো ভেহিকেলস জোন হবে। সাইকেল চলবে আর বয়স্কদের জন্য ব্যাটারি কার থাকবে। ক্যাফে থাকবে। বই পড়ার জন্য বেঞ্চ থাকবে। কোনও আওয়াজ হবে না। তবে মেন কলেজ স্ট্রিটে এখন হাত দেব না। কারণ, ওটা গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাফিক জোন। রেলিংটাকে দেখাতে চাই, সে জন্য ওই দোকানগুলিকে যদি কোথাও নিয়ে যাওয়া যায়, সেটা দেখা হয়েছে। এবার কাজ শুরু হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব দোকান এক লাইনে নিয়ে আসতে হবে। পথচারীদের সমস্যায় ফেলে ব্যবসা করা যাবে না। বইপাড়ায় ডিজাইনের স্টল করব। জায়গাটাকে সুন্দর করব। এখানে ব্লু টিন, কেউ ডার্ক ব্লু টিন, কেউ লাল টিন। এটা চাই না। সুন্দর করব। বিদেশে যেমন আছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ আছে দুর্গাপুজোর আগে দোকান সরানো যাবে না। আমি কাউকে সরাব না। কিন্তু ফুটপাথ পুরোটা আটকে ব্যবসা করা যাবে না।’