বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। আর যাঁরাই দলবদল করছেন অথবা বিদ্রোহী শিবিরে যাচ্ছেন প্রত্যেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করছেন। তাঁর জন্যই দলে থাকা যায়নি এবং এই পরাজয়ের জন্য ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ দায়ী বলে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এই আবহে দলবদলু এবং বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়া নেতা-নেত্রীদের কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। শনিবার বিকেলে কড়া ভাষায় তিনি আক্রমণ করলেন যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন তাঁদের।
এদিকে এবার ‘বিদ্রোহী’দের নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁরা দল ছাড়ছেন তাঁরা সমালোচনা করছেন অভিষেকের। অনেকেই বলেছেন, অভিষেক থাকলে তাঁরা দলে থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বাড়ির সামনে থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুর সপ্তমে তুলে বলেন, ‘যদি ওদের কেউ ফিরে আসে, আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব। মিলিয়ে নিন, একজনও আসবে না। সবাই ফিরে এলে ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দল ছেড়ে দেব।’
অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়। একুশে জুলাইয়ের আগে এমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ঋতব্রত শিবির এখন চাপের মধ্যে রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ এই চ্যালেঞ্জ যদি নিতে না পারেন তাঁরা তাহলে রাজ্যের মানুষ বুঝে যাবেন বিশেষ স্বার্থেই তাঁরা শিবির বদলেছেন। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে অভিষেকের তোপ, ‘যাঁদের আমাকে নিয়ে সমস্যা, তাঁরা দলে ফিরুন। আপনারা ফিরে আসুন, আমি মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দল ছেড়ে দেব। একটা কেন্দ্রীয় এজেন্সির সমন আসতেই যদি আপনি চলে যান, তাহলে এটা পরিষ্কার যে আপনি লড়াই করতে চান না। আপনি ভয় পান, আর ভয় পান বলেই মাথানত করেন। ইডি আমাকেও ডেকেছে, আমি তো পালিয়ে যাইনি। আমাকে ১০ বার ডেকেছে, সিআইডি ডেকেছে, রাজ্য পুলিশ ডেকেছে। আমার বিরুদ্ধে ২০-৩০টা এফআইআর হয়েছে, আমি নিজেও জানি না।’
তাছাড়া এঁরা যে আসবে না সেটাও স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। সদ্য বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়া বিধায়কের নাম মদন মিত্র। নাম না করে তাঁকে নিশানা করেন তিনি। আর কাঠগড়ায় তোলেন ঋতব্রত শিবিরকে। এদিন বিদ্রোহীদের অভিষেকের খোঁচা, ‘যদি আপনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চারটে গালি না দেন, তবে তো ইডি-সিবিআই বা ওদিকের পুলিশ আপনাকে ছাড়বে না! ওটা বললেই ওদিক থেকে বেঁচে থাকা যাবে, এটাই ডিল। যাদের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ, তারা এখন ওদিকে বালিশ চাটার জন্য ছটফট করছে। যদি দলের হারের দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়, তবে ২০২৪ সালের লোকসভায় যে দল ২৯টা আসন জিতল, সেই জয়ের ক্রেডিটও তো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ডিসক্রেডিট আমার হলে, জেতার সময় ক্রেডিটও আমার। ৬০ জন এমএলএ গিয়েছে, কিছু মানুষ গিয়েছে, ২০ জন এমপি গিয়েছে। আপনারা এটাই বলছেন তো যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছেড়ে দিলে আপনারা সবাই চলে আসবেন? আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আপনারা দলে ফিরে আসুন, ১ ঘণ্টার মধ্যে আমি নিজের ইস্তফা দিয়ে দেব। আপনারা ৩টের সময় আসুন, আমি ৪টের সময় পদ ছেড়ে দিচ্ছি। কেউ আসবে না, কারণ ওনাদের আসল উদ্দেশ্য বাঁচা, দল করা নয়।’




