• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 16 July, 2026

অভিষেকের আপ্ত-সহায়ককে স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট, পাঞ্জাবে লুকিয়ে সুমিত!

সই জাল কাণ্ড থেকে শুরু করে টাকা নিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে। টাকা নিলেও চাকরি হয়নি বলেই অভিযোগ

অভিষেকের আপ্ত-সহায়ককে স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট, পাঞ্জাবে লুকিয়ে সুমিত!

Abhishek Banerjee PA Sumit Roy Photo-SNS

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়কে স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বৃহস্পতিবার মৌখিক নির্দেশ দেন, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। ফলে আপাতত গ্রেপ্তার বা অন্য কোনও কড়া পদক্ষেপ থেকে রক্ষাকবচ পেলেন তিনি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষের প্রবীণ আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী সোমবার। আর ততদিন পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ বহাল থাকবে বলেই জানানো হয়েছে।

এদিকে এই সুমিত রায় পাঞ্জাবে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর মিলেছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি টিম পাঞ্জাবে পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। সুমিত রায় প্রথমে সপরিবারে গা-ঢাকা দেয়। পরে পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিজে একা গা-ঢাকা দিয়েছেন। কদিন আগে সুমিত রায়ের মোবাইল নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করে পাঞ্জাবে পৌঁছেছিল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। কিন্তু অল্পের জন্য ফস্কে যান তিনি। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, চারদিকে যে পরিমাণ জাল বিছানো হয়েছে তাতে সুমিত রায়ের পক্ষে বেশিদিন পালিয়ে বাঁচা অসম্ভব। যে কোনওদিন তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন।

অন্যদিকে সই জাল কাণ্ড থেকে শুরু করে টাকা নিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে। টাকা নিলেও চাকরি হয়নি বলেই অভিযোগ। এমনকী নানা অনৈতিক, দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে। শালবনি থানায় দায়ের হওয়া মামলার জেরে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ওই পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী। তদন্তে পুলিশ মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান দেখে সুমিত রায়কে ধরতে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনে পৌঁছেছিল। শালবনি থানার পুলিশ অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। কিন্তু সুমিতের খোঁজ মেলেনি।

তাছাড়া অভিষেকের ডান-হাত হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি জমি জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। শালবনি এলাকায় সরকারি খাস জমিকে ভুয়ো মালিকানাধীন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন সুমিত। এক ব্যক্তির থেকে জমি পাইয়ে দেওয়ার নামে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা এবং সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ভুয়ো সরকারি নথি তৈরি করে প্রতারণার নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে। এমনকী সিআইডি সুমিতের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিস জারি করেছে।