• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 17 July, 2026

গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা এবং পর্যটনকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব, কেন্দ্রকে চিঠি রাজ্যের

গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতি দিলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়বে। এই কাজের ফলে ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেটা তুলে ধরা যাবে

গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা এবং পর্যটনকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব, কেন্দ্রকে চিঠি রাজ্যের

Gangasagar Mela Photo-SNS

গঙ্গাসাগরকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বারবার চিঠি দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। তখন নানা কারণে তা হয়নি। কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে চিঠি দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এমনকী গঙ্গাসাগরকে বিশ্বমানের ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেও আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে দু’টি চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন। রাজ্যে পালাবদলের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গঙ্গাসাগরকে জাতীয় স্তরের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে কেন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করা হবে।

এবার গত বুধবার গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলা এবং বিশ্বমানের ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি এবং পর্যটন মন্ত্রকের সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন বলে সূত্রের খবর। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গঙ্গাসাগর মেলা দেশের অন্যতম প্রাচীন, বৃহত্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। প্রত্যেক বছর মকর সংক্রান্তিতে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, সাধু-সন্ত এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখানে আসেন। তাই গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতি দিলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়বে। এই কাজের ফলে ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেটা তুলে ধরা যাবে।

গঙ্গাসাগর মেলার এই ব্যাপকতা এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা মাথায় রেখেই একে ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রকে। গঙ্গাসাগর মেলার আর্কাইভ সংরক্ষণ, লোকসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার প্রসার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা চাওয়া এবং আর্থিক সহায়তার আর্জি করা হয়েছে। প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়-মেলার নথিভুক্তকরণ, সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে গঙ্গাসাগরের ঐতিহ্য প্রচারের জন্য কেন্দ্রের তা সহায়ক হবে। আর্থিক সাহায্য পেলে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, স্মার্ট যানবাহন, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নদীতীর উন্নয়ন এবং জনসাধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

আর রাজ্যের পর্যটন সচিব সৌমিত্র মোহনের সই করা দু’টি চিঠিতে দেওয়া প্রস্তাব অনুমোদন পেলে সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি গঙ্গাসাগর দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য আরেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এই প্রকল্পের জন্য পূর্ত দপ্তর-সহ সব দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের সহযোগিতায় ডিপিআর তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসাদ প্রকল্পের আওতায় এই কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর এই প্রসাদ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো সারা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিকীকরণ করা।