দেশজুড়ে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের যে ছক কষা হয়েছিল সেটার পর্দাফাঁস করল গুজরাত পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াড। বোমা বিস্ফোরণের ছক কষার অভিযোগে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের আরও পাঁচ সন্দেহভাজন চরকে গ্রেপ্তার করল গুজরাট অ্যান্টি-টেরোরিজম স্কোয়াড। তার ফলে এই মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩। কয়েকদিন আগে এই একই চক্রের আটজনকে গ্রেপ্তার করেছিল এটিএস। এই জঙ্গি মডিউলের বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে তদন্তকারী সূত্রে খবর, আগে যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের জেরা করে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই গুজরাতের একাধিক জেলা থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম-বিলাল আবিদ শেরা, মহম্মদ আইয়ুব কাদিওয়াল, মহম্মদ শফি মুখি, মহম্মদ হাসান কারাডিয়া এবং মহম্মদ খালি। গত ৬ মাসের বেশি সময় ধরে নিজেদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ রেখে গুজরাত-সহ দেশের নানা প্রান্তে বড় বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিল তারা। কিন্তু পাকিস্তানের চর ভারতে প্রবেশ করল কেমন করে? যেখানে সীমান্ত সুরক্ষায় জোর দিচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেখানে এই ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
অন্যদিকে এটিএস সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রের সঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের যোগাযোগ ছিল। ধৃতরা গুজরাতেই ‘ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস’ তৈরি করেছিল এবং নির্জন এলাকায় বারবার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণও ঘটিয়েছিল। মোট ছয় থেকে সাতবার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ চালানো হয়। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি সফল হয়েছে। এর আগে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ফরেনসিক পরীক্ষার পর তদন্ত করে দেখতেই মেলে সাফল্য। ওই রিপোর্টে দেখা যায়, ধৃতরা জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখত।
তাছাড়া জঙ্গি সংগঠনের সদর দপ্তরের সঙ্গে আগে গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগও ছিল বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জইশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তরের সঙ্গে তাদের নিয়মিত কথাবার্তা আদানপ্রদান চলত। বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের প্রমাণগুলি থেকে ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের লাগাতার যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জেরে বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ওই ধাক্কা সামলে ওঠার পর জঙ্গি সংগঠনটি নতুন করে তাদের নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গুজরাতে ধৃত এই মডিউলটি সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ারই অংশ কিনা সেটা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।




