• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 17 July, 2026

কলকাতা থেকে লণ্ডনে গেল কোটি টাকার চা, কফি

ভারত ও যুক্তরাজ্যের কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্টের আওতায় ভারতের রপ্তানি  বড় এক ধাপ এগোল। কলকাতা এয়ার কার্গো কমপ্লেক্স থেক

কলকাতা থেকে লণ্ডনে গেল কোটি টাকার চা, কফি

কলকাতা থেকে লণ্ডনে গেল কোটি টাকার চা, কফি, গয়না (AI নির্মাণ)

ভারত ও যুক্তরাজ্যের কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্টের আওতায় ভারতের রপ্তানি  বড় এক ধাপ এগোল। কলকাতা এয়ার কার্গো কমপ্লেক্স থেকে লণ্ডনে গেল ভারতের প্রথম গয়নার চালান।পুরো ব্যাপারটা প্রায় ২৭ কোটি টাকার। এই চালানটা গিয়েছে পুরোপুরি নতুন চুক্তির নিয়ম মেনে।

অনুষ্ঠানটি হয়েছে কলকাতায়।  চেনা মুখেদের মধ্যে সেখানে হাজির ছিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়, কাস্টমস দফতরের যোগেন্দ্র গর্গ, বৈদেশিক বাণিজ্য দফতরের চন্দ্রকান্ত মিশ্র, ব্রিটেনের উপ-হাইকমিশনার অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং এবং GJEPCএর পঙ্কজ পারেখসহ আরও অনেকেই।

ছয়টি প্রথমসারির রফতানি সংস্থা জাইস জুয়েলারি, মডার্ন ইমপেক্স, এল. গোপাল অ্যান্ড সন্স, এবি জুয়েলস, জেএস জুয়েলস ও হাসমুখ পারেখ জুয়েলার্স এই লেলনদেনের অংশ হয়েছে, যেখানে ছিল সোনা, হিরে, রূপো, প্ল্যাটিনামের গয়না। শুধু তাই নয়, একই অনুষ্ঠানে লণ্ডনে রপ্তানি হয়েছে ব্ল্যাক টি, দার্জিলিং চা, কফি আর তিন হাজার কিলো পানপাতা। কেউ কেউ বলছেন, এই রপ্তানি আরও একবার প্রমাণ করল পশ্চিমবঙ্গের বহুমুখী রপ্তানি সত্যিই সম্ভাবনাময়।

DGFT–র অন্যতম অধিকর্তা চন্দ্রকান্ত মিশ্র বললেন, এই চুক্তি ভারতের দুই অঞ্চলের রপ্তানিকারকদের ভীষণ বড় সুযোগ দিচ্ছে। তাঁর মতে, ‘এই চুক্তি পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর–পূর্ব ভারতের জন্য গেমচেঞ্জার হতে চলেছে। জেম-জুয়েলারি, চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, পাট আর ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য—এই সবকিছুর লণ্ডনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার মিলবে, যা এখানকার শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন মাত্রা দেবে।’

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের গয়না, সামুদ্রিক পণ্য আর পাট যুগে যুগে লণ্ডনের বাজারে পৌঁছেছে। চুক্তি অনুসারে শুল্ক উঠে গেলে এই ক্ষেত্রগুলো আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে, ব্যবসায়ীদের জন্য আসবে নতুন নতুন সুযোগ।

ড. অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং  স্পষ্ট জানিয়েছেন—’আজ কলকাতা থেকে শুধু পণ্য পাঠানো হচ্ছে না, বরং আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি, ভারত–লণ্ডন CETA আর শুধু চুক্তিপত্রে আটকে নেই, সেটা বাস্তবেও কাজ করছে। এই অগ্রগতি ব্যবসার সুযোগ বাড়াবে, চাকরি তৈরি করবে, পশ্চিমবঙ্গ আরও সমৃদ্ধ হবে।’ তিনি এই রপ্তানিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করেছেন। জানিয়েছেন, গয়না, চা, কফি, পানপাতা  পশ্চিমবঙ্গের কারুশিল্প আর কৃষির ঐতিহ্যের পরিচয়। তাঁর কথায়, ‘এই চালান শুধু আনুষ্ঠানিক প্রথম রপ্তানি নয়, বরং আরও বহু রপ্তানির শুরু, পূর্ব ভারতের ব্যবসায় সক্রিয় অংশগ্রহণের নতুন দরজা খুলল আজ।’

কাস্টমস সদস্য যোগেন্দ্র গর্গও জানান, ‘এটা সম্ভাবনার যাত্রা শুরু। নতুন বাজারে ধরাছোঁয়ার সুযোগ বাড়ল, স্থানীয় দক্ষতা এখন বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা পাবে, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান আর যৌথ সমৃদ্ধি।’

সবশেষে বলতেই হয়, চুক্তির নিয়ম মেনে ভারতীয় রত্ন ও গয়না লণ্ডনে এখন শুল্কমুক্ত প্রবেশ করেছে, আমদানি শুল্কও সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত উঠে গেল। এতে ভারতীয় গয়নার প্রতিযোগিতা শক্তি নিঃসন্দেহে এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে।