বদলে যাওয়া বাংলায় যে কোনও অনিয়ম আর অরাজকতা চলবে না, তা ফের স্পষ্ট করে দিল রাজ্য। রাজ্যের বেসরকারি বিএড কলেজ এবং শিক্ষক শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির (Self-financed Teachers Training Institutes and B.Ed Colleges) হাল ফেরাতে এবার বেনজিরভাবে কঠোর পদক্ষেপ করল উচ্চশিক্ষা দপ্তর (Department of Higher Education)। ভুঁইফোঁড় বিএড কলেজগুলির রমরমা এবং সেখানে চলা একাধিক গুরুতর অনিয়মের (Serious Irregularities) ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়ছিল বিকাশ ভবনে। সেই প্রেক্ষিতেই এবার বাবা সাহেব আম্বেদকর শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Baba Saheb Ambedkar Education University) উপাচার্যকে কড়া চিঠি পাঠাল রাজ্য সরকার।
বেসরকারি বিএড কলেজগুলির উপর নজরদারি (Monitoring) বাড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জারি করা হয়েছে একাধিক নতুন নির্দেশিকা। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে শিক্ষামহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ক্লাস ও উপস্থিতিতে নজরদারি
রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি (Senior Special Secretary) স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার থেকে প্রতিটি বেসরকারি বিএড কলেজের শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা (Biometric Attendance System) বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু তাই নয়, কলেজগুলির ক্লাসরুমে সিসিটিভি (CCTV Recording) বসানোও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ক্লাসের সিসিটিভি ফুটেজ অন্তত এক মাস সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। শুধু জমিয়ে রাখাই নয়, সেই ফুটেজ ও ডেটা রিয়েল টাইমে (Real Time) অর্থাৎ সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে শেয়ার করতে হবে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে। এর ফলে কোনও কলেজ ফাঁকি দিচ্ছে কি না বা ভুয়ো উপস্থিতির মাধ্যমে কোনও বেআইনি কাজ হচ্ছে কি না, তা সরাসরি বিকাশ ভবন থেকেই নজরদারি করা সম্ভব হবে।
কড়াকড়ি অনুমোদনে
অভিযোগ উঠছিল, বহু বেসরকারি বিএড কলেজেরই নিজস্ব উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। নামমাত্র শিক্ষক দেখিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এই অনিয়ম রুখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবার থেকে কোনও বেসরকারি বিএড কলেজের অনুমোদন নবীকরণ (Renewal of Affiliation) বা নতুন কোনও কলেজকে অনুমোদন (New Affiliation) দেওয়ার আগে কঠোর পরিদর্শনের (Strict Inspection) মুখোমুখি হতে হবে। কলেজের শিক্ষকদের আসল স্থিতি (Status of the Teachers) এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো (Infrastructure) খতিয়ে দেখে তবেই মিলবে ছাড়পত্র।
বিকাশ ভবনের তরফে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এই সমস্ত নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করে দ্রুত একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট (Compliance Report) জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের জনশিক্ষা নির্দেশক (DPI), উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক এবং অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের কাছেও।
সরকারের এই সাঁড়াশি চাপের পর রাজ্যের বেসরকারি শিক্ষক শিক্ষণ ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হবে, এমন আশার আলোই দেখছেন শিক্ষাবিদরা।




