• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 12 July, 2026

হোয়াইটওয়াশের পর শ্রেয়স আইয়ারের ব্যাখ্যা— ‘পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারিনি আমরা’

ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারজয়ী জস বাটলার দীর্ঘদিনের খারাপ ফর্ম কাটিয়ে আবার নিজের সেরাটা ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। কেরিয়ারের সেরা ৬৪ বলে ১৩১ রানের ইনিংস খেলে তিনি ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা নেন এদিন।

হোয়াইটওয়াশের পর শ্রেয়স আইয়ারের ব্যাখ্যা— ‘পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারিনি আমরা’

Photo: BCCI X handle

প্রতিটি ভেন্যুর বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁর দল নিজেদের মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আর সেই কারণেই শনিবার সাউদ্যাম্পটনে পঞ্চম ও শেষ টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচেও ৫৬ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ সম্পূর্ণ করে ইংল্যান্ড। শনিবারের হারের পর এ কথা স্বীকার করে নেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার।

ইংল্যান্ডের ৩ উইকেটে ২৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায়। ফলে কোনো সময়ই ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। ২০১ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। অথচ সিরিজের মধ্যে এটিই ছিল ব্যাটিংয়ের পক্ষে সবচেয়ে ভাল উইকেট।

ডারহামের চেস্টার-লে-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। তার পরে টানা চার ম্যাচে হারল টি-২০-র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। তার আগে আয়ারল্যান্ডে দুই ম্যাচেই হেরে এসেছে তারা।

“এই সিরিজ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। পরিস্থিতি বোঝা, সচেতন থাকা এবং নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। আমরা যে উইকেটে খেলেছি, তার মধ্যে এটিই ব্যাটিংয়ের জন্য সেরা ছিল। কিন্তু ব্যাটিংয়ের সময় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা ছিল। প্রথম ম্যাচ থেকেই প্রতিটি ম্যাচে পরিস্থিতি বদলেছে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের সেই পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে,” ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলেন শ্রেয়স আইয়ার।

ভারতের ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অধিনায়ক বলেন, ফিল্ডিংয়ের ভুল এবং বড় পার্টনারশিপ গড়তে না পারাই দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল।

তিনি বলেন, “কোথায় আমরা আরও ভালো করতে পারতাম, সেটা নিয়ে আলোচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এই দিকটায় আমাদের আরও কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে, যেখানে মাঠের আকার-আকৃতিও আলাদা হয়। আমরা কয়েকটি ক্যাচ ফেলেছি, যার বড় মূল্য চোকাতে হয়েছে। ইংল্যান্ড যদি ২২০-২২৫ রান করত, তাহলে হয়তো আমরা লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারতাম। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়নি।”

এ দিন ভারতীয় দলে ফেরা সঞ্জু স্যামসন ১৪ বলে ২৭ রান করে ফিরে যান। তাঁর সঙ্গী ওপেনার অভিষেক শর্মা মাত্র তিন রান করেন। তবে ইশান কিষাণের ৩৫ বলে ৫৬, শ্রেয়সের ১৬ বলে ২৮ ও তিলক ভার্মার ২৫ বলে ৫৩ ভারতের ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। কিন্তু তিলক ভার্মা আউট হওয়ার পরেই ভারতের ইনিংসের গতি কমে যায় এবং ধস নামে। টেল এন্ডাররা সবাই মিলে ২৯ রানের বেশি রান করতে পারেননি।
একসঙ্গে একাধিক উইকেট হারানোর বিষয়েও হতাশা প্রকাশ করে আইয়ার বলেন, “আমরা নিয়মিত বিরতিতে একসঙ্গে উইকেট হারিয়েছি। লক্ষ্য তাড়া করার তাড়ায় আমরা জুটি গড়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিইনি। আমাদের নির্দিষ্ট বোলারদের টার্গেট করতে হবে এবং প্রয়োজনে সময় নিয়ে ইনিংস গড়তে হবে।”

ইংল্যান্ডের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “ওদের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ছিল একেবারে নিখুঁত। জস বাটলার অসাধারণ ব্যাটিং করেছে, আর হ্যারি ব্রুক ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ওদের ওই জুটিই ইনিংসকে স্থিতিশীল করে এবং ম্যাচ আমাদের হাতছাড়া করে দেয়।”

এ দিন ইংল্যান্ডের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এবং জস বাটলার। দু’জনে মিলে ২৩৩ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে ম্যাচটিকে ভারতের নাগালের বাইরে নিয়ে চলে যান।

সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতা হ্যারি ব্রুক ইংল্যান্ডের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। এই জয়ের সুবাদে ইংল্যান্ড শুধু ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতেনি, টি-২০ আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়েও এক নম্বর স্থানে উঠে পড়ে।
অপরাজিত ৪৫ বলে ৯৫ রানের ইনিংস খেলার পর ব্রুক বলেন, “আমরা দারুণ উপভোগ করেছি। ভালোভাবে দৌড়ে রান নিয়েছি, বাউন্ডারি মেরেছি এবং একে অপরকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেছি। আমরা শুধু নিজেদের এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, যেখান থেকে ম্যাচের মোড় আর ঘোরানো যাবে না”।

আইসিসি টি-২০ আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডের এক নম্বর দল হওয়াতেও দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি। বলেন, “আমরা বিশ্বের এক নম্বর টি-২০ দল হয়েছি। কয়েকটি ম্যাচের মধ্যেই এই লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি। দলের সব ছেলেই ভীষণ খুশি, আর এই সাফল্য উদ্‌যাপন করার যোগ্য আমরা।”

ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারজয়ী জস বাটলার দীর্ঘদিনের খারাপ ফর্ম কাটিয়ে আবার নিজের সেরাটা ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। কেরিয়ারের সেরা ৬৪ বলে ১৩১ রানের ইনিংস খেলে তিনি ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা নেন এদিন।
“আমি ভীষণ খুশি। কিছুদিন ধরে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম। আবার নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে,” বলেন বাটলার।

তিনি আরও বলেন, “আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, এই ইনিংসটা আসবেই। আইপিএলেও নিজের ব্যাটিং নিয়ে ভালো অনুভূতি ছিল। তবে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে চাপানোর মধ্যে আলাদা একটা অনুভূতি কাজ করে।”