হালান্ডকে ঘিরে যত আলো ছিল, ম্যাচ শেষে সবটাই নিজের দিকে টেনে নিলেন জুড বেলিংহ্যাম। তাঁর জোড়া গোলেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১-এ হারিয়ে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। তবে এই জয় মোটেও সহজ ছিল না। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই বেলিংহ্যামের দ্বিতীয় গোলেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফয়সালা হয়।
মিয়ামিতে শুরু থেকেই লড়াই ছিল সমানে সমানে। ইংল্যান্ডের তারকা-সমৃদ্ধ আক্রমণকে আটকে রেখে পাল্টা আক্রমণে বারবার চাপ তৈরি করে নরওয়ে। সেই চাপেরই ফল মেলে ৩৬ মিনিটে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন বেলিংহ্যাম। দুরন্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতা ফেরান তিনি, আর ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন থমাস টুখেলের দলকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে। নরওয়ে একবার বল জালে জড়ালেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেই গোল বাতিল হয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও একাধিক সুযোগ নষ্ট করে। নির্ধারিত সময়ে আর গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আসে ম্যাচের নির্ণায়ক মুহূর্ত। মর্গ্যান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিল্যান্ড ঠিকমতো সামলাতে পারেননি। ফিরতি বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেননি বেলিংহ্যাম। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের জয়সূচক গোল করে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি।
ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তোলার পর বেলিংহ্যাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মানসিক দৃঢ়তা এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তিই শেষ পর্যন্ত আমাদের জয় এনে দিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক না চললেও আমরা এক মুহূর্তের জন্যও হাল ছাড়িনি, নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। এই দলের জন্য আমি ভীষণ গর্বিত। এই জয় শুধু আমাদের নয়, সবার। গোটা দেশই আজ এই সাফল্যের অংশীদার—যাঁরা সব সময় আমাদের পাশে থেকেছেন, দলের সাপোর্ট স্টাফ-সহ প্রত্যেকেরই এই জয়ে সমান অবদান রয়েছে।”
অন্যদিকে গোটা টুর্নামেন্টে দুরন্ত ছন্দে থাকা এরলিং হালান্ডকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে ইংল্যান্ডের রক্ষণ। পুরো ম্যাচে বড় কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বসিয়েও দেন কোচ। নরওয়ে তুমুল লড়াই করলেও স্বপ্নভঙ্গ হয় শেষ বাঁশি বাজার আগেই।
জয়ের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন বলেন, “বল দখল এবং গোলের সুযোগের বিচারে ম্যাচটা সমান সমানই ছিল। কিন্তু দলে যখন জুড (বেলিংহ্যাম)-এর মতো একজন ফুটবলার থাকে, যে এক মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তখন সেটাই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। আজও ও সেটাই করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমাদের ছেলেদের অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা এবং জয়ের খিদেই আমাদের সাফল্য এনে দিয়েছে।”
ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল বলেন, “আজ আমরা নিজেদের জীবনটা নিজেরাই খুব কঠিন করে তুলেছিলাম। ফলাফল অবশ্যই দুর্দান্ত—আমরা শেষ চারে উঠে গিয়েছি। কিন্তু দলের পারফরম্যান্সে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। আজ আমরা কিছুটা ভাগ্যেরও সাহায্য পেয়েছি। সেমিফাইনালে ভালো কিছু করতে হলে আমাদের এর চেয়ে অনেক ভালো খেলতে হবে।”
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল ইংল্যান্ড। শেষ চারের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ গতবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা। তবে জয় পেলেও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সে এখনও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। রক্ষণে একাধিক ভুল এবং মাঝমাঠে ছন্দপতনের ছবি ফের দেখা গিয়েছে। কিন্তু বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিলেন একজনই— জুড বেলিংহ্যাম। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।




