• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 12 July, 2026

হরমুজ় প্রণালী ঘিরে মার্কিন-ইরান সংঘাত তীব্র, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বাড়ছে অস্থিরতা

ওয়াশিংটনের শর্ত হল, ইরানকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে। সেই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালীতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রথম ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

হরমুজ় প্রণালী ঘিরে মার্কিন-ইরান সংঘাত তীব্র, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বাড়ছে অস্থিরতা

Photo: Statesman

পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ফের যুদ্ধের আবহ। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতও ফের তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ় প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজের উদ্দেশে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস(আইআরজিসি) নৌবাহিনী। এবার পাল্টা ইরানে হামলা চালাল আমেরিকা। ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার পরে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির যেটুকু সম্ভাবনা ছিল, সেটাও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি নামে একটি কনটেইনার জাহাজে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস(আইআরজিসি) হামলা চালানোর পরে আমেরিকা পাল্টা ইরানে হামলা চালায়। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি ওই জাহাজটিতে থাকা একজন নাবিকও নিখোঁজ রয়েছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনে শনিবার রাতে ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি অনুমোদনহীন রুট দিয়ে হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। জাহাজটিকে একাধিকবার সতর্ক করা পরেও নির্দেশ না মানায় আইআরজিসি নৌবাহিনী সতর্কতামূলক গুলি চালায়। তেহরানের দাবি, গুলি চালানোর পরে জাহাজটি থেমে যায়।

এরপরেই তেহরান হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করার কথা ঘোষণা করে। এর পাশাপাশি আমেরিকাকে সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও সামরিক পদক্ষেপের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হল স্ট্রেট অব হরমুজ়। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আসে। ফলে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়বে। এর প্রভাব বিশ্বে মূল্যস্ফীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আর যুদ্ধবিরতি হওয়া সম্ভব নয়। তবে তিনি আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করেননি। ওয়াশিংটনের শর্ত হল, ইরানকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে। সেই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালীতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রথম ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্রের খবর, যদিও সংঘাত চলছে। কিন্তু তারপরেও ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চলছে। এদিকে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমান কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে গোটা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।