• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 8 July, 2026

তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে কমিটি নিয়ে লড়াই, বিধানসভার অন্দরে নয়া বিরোধ

ঋতব্রত তৃণমূলের সঙ্গে বেশি সংখ্যক বিধায়ক রয়েছেন। সেখানে কালীঘাট তৃণমূলের কাছে রয়েছে তার থেকে কম সংখ্যক বিধায়ক

তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে কমিটি নিয়ে লড়াই, বিধানসভার অন্দরে নয়া বিরোধ

WB-Assembly Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরই ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে কালীঘাট তৃণমূল অপরদিকে ঋতব্রত গোষ্ঠীর তৃণমূল গড়ে ওঠে। একে অপরকে আক্রমণও করতে থাকেন। সাংসদদের একটা বড় অংশও পৃথক দলে যোগ দেন। তার মধ্যে প্রতীক-তহবিলের দখল রাখতে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে গিয়েছিল দু’পক্ষই। সেসব এখন নির্বাচন কমিশনের অধীন। এই আবহে বিধানসভার অন্দরে চারটি কমিটি নিয়ে দুই তৃণমূলের মধ্যেই লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এদিকে বিধানসভার চারটি কমিটির ফর্ম ইতিমধ্যেই তুলেছে কালীঘাট তৃণমূল। পাল্টা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ঋতব্রত গোষ্ঠীর দাবি করা আসল তৃণমূল। এখন এই চারটি কমিটিতে কারা থাকবে? সেটা নিয়ে বিধানসভার অলিন্দে লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। চার কমিটির মধ্যে রয়েছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি, কমিটি অন পাবলিক আন্ডারটেকিংস, কমিটি অন এস্টিমেটস, কমিটি অন লোকাল ফান্ড অ্যাকাউন্টস কমিটি। এই চার কমিটির জন্য ফর্ম তুলল কালিঘাট শিবির। বিধানসভায় কাজ পরিচালনা করার জন্য একাধিক কমিটি গঠন করা হয়। বিধানসভার পরিকাঠামোয় সাধারণত ১১টি স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং প্রায় ২০টি হাউস কমিটি থাকে।

অন্যদিকে এই চারটি কমিটিতে থাকতে চায় ঋতব্রত গোষ্ঠীর আসল তৃণমূলও। তাই তারা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর। যা নিয়ে বিধানসভার অন্দরে নয়া বিরোধ শুরু হতে চলেছে। কারণ ঋতব্রত তৃণমূলের সঙ্গে বেশি সংখ্যক বিধায়ক রয়েছেন। সেখানে কালীঘাট তৃণমূলের কাছে রয়েছে তার থেকে কম সংখ্যক বিধায়ক। সুতরাং লড়াই যে হবে সেটা কার্যত স্পষ্ট। এই ২০টি হাউস কমিটির মধ্যে বিশেষ প্রয়োজনে চারটিতে ভোটাভুটি অথবা নির্বাচন হতে পারে। আর এই চারটির মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ কমিটি হলো ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’। যা নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের হাতে থাকে। এবার তা কার হাতে থাকবে সেটা সময়ই বলবে।

তাছাড়া বিধানসভা সূত্রে খবর, এই চার কমিটির মধ্যে বিশেষ করে পাবলিক অ্যাকাউন্স কমিটির সদস্য পদের জন্য ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল এবং কালীঘাটপন্থী তৃণমূল— দুই শিবিরই এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে। সুতরাং বিধানসভায় কমিটিতে থাকা কালীঘাট তৃণমূলের পথ মসৃণ হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। নিজেদের পক্ষ থেকে এখন মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই শিবিরই। যদি সদস্য পদের জন্য জমা পড়া মনোনয়নের সংখ্যা নির্দিষ্ট আসন সংখ্যার বেশি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে বিধানসভার অন্দরে ভোটাভুটি অনিবার্য।