মাঝ আকাশে হঠাৎই বেপাত্তা পাকিস্তানের কার্গো বিমান। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজা থেকে কার্গো বিমানটি পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। বোয়িং ৭৩৭ বিমানটির করাচিতে ল্যান্ড করার কথা ছিল। কিন্তু আরব সাগরের উপর থেকে বিমানটি হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায়। ওই বিমানে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাঁদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা ১৮ মিনিটে বিমানটি করাচির দিকে আসার সময়ে ক্রু মেম্বাররা টেকনিক্যাল সমস্যার কথা জানান। এরপরেই বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, করাচি বন্দরের কাছে আরব সাগরে কার্গো বিমানটির খোঁজ চালানো হচ্ছে। পাকিস্তানের বায়ু ও নৌ সেনা বিমানটির খোঁজ চালাচ্ছে। তবে বিমানটি কী কারণে নিখোঁজ হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক অনুমান, কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমান মাঝ আকাশ থেকে হঠাৎই নীচের দিকে নামতে শুরু করে। পাকিস্তানের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি ইতিমধ্যেই এই নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, বিমানটি পাকিস্তানের করাচিভিত্তিক বেসরকারি কার্গো সংস্থা কেটু এয়ারওয়েজ পরিচালনা করছিল। বিমানটি শারজা থেকে করাচিতে মালপত্র বয়ে নিয়ে আসছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৭ বছর পুরোনো এই বোয়িং ৭৩৭ কার্গো বিমানটি সম্ভবত করাচির দক্ষিণ-পশ্চিম আরব সাগরে ভেঙে পড়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে বিমান, জাহাজ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। সমুদ্রে নিখোঁজ বিমানটির ধ্বংসাবশেষ এবং পাঁচজন ক্রু সদস্যের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কেটু এয়ারওয়েজ ২০১৮ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি করাচিভিত্তিক একটি বেসরকারি কার্গো বিমান সংস্থা, যা মূলত পণ্য পরিবহনের কাজ করে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।




