রাজ্যে পালাবদলের পরে তোলাবাজি থেকে শুরু করে একের পর এক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে অনেক তৃণমূল নেতার। কিছুদিন আগে দেশপ্রিয় পার্কে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমারের দলীয় কার্যালয়ে মিলেছিল ত্রাণ সামগ্রী। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ সেখান থেকে থরে থরে সাজানো ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করেছিল। এবার সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের খবরের শিরোনামে উঠে এলেন আরও এক কুমার। তবে এই কুমার সেই কুমার নন। এর আগে তাঁর বাড়িতে কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযান চালায়নি। তবে এবার কালীঘাটের এই কুমারের বিরুদ্ধে ফুটপাতের হকার বসিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
জমি, বাড়ি, চাকরি কেলেঙ্কারির সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ তো ছিলই। এবার নতুন রূপে দেখা গেল এক তৃণমূল নেতাকে। কলকাতা পুরসভার ফুটপাতে হকার বসিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ উঠল কালীঘাটের তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বিরুদ্ধে। তবে এখানেই শেষ নয়, ওই তৃণমূল নেতার আরও কীর্তির কথা সামনে এসেছে। এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে এক অ্যাম্বুলেন্সের মালিকের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে কুমার সাহা এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে।
রাজ্যে পালাবদলের আগে এই ধরনের অপরাধের কথা কানে শোনা গেলেও সামনে আসেনি। কিন্তু পালাবদলের পর সরাসরি কালীঘাট এবং ভবানীপুর থানার পুলিশ এফআইআর রুজু করেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার শপথ নেওয়ার পরেই ঘোষণা করেছিলেন দুর্নীতির সমস্ত ফাইল ধীরে ধীরে খোলা হবে। এই কথায় আশ্বস্ত হয়েই শুরু হয়েছে প্রতিবাদ।
এক সময়ের তৃণমূলের ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত কালীঘাট এলাকার সাধারণ মানুষ ভয় পেতেন ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ হিসাবে পরিচিত কুমার সাহাকে। ফলে থানায় যাওয়া তো দুরস্ত, দেখলে মাথা নিচু করে চলে যেতেন অনেকেই। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন ধরে চলেছে অপরাধমূলক কাজ। প্রশ্রয় পেয়েছে দুর্নীতি। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। কাঁচা টাকার লোভ সামলাতে পারেননি অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বলে দাবি স্থানীয়দের।
চলতি বছরের জুন মাসে কালীঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এলাকার হকাররা। অভিযোগ জমা পড়ে কুমার-সহ তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কুমার সাহা ও তাঁর সাগরেদরা কালীঘাট অঞ্চলের হকারদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা ‘তোলা’ তুলত। এমনকী যেখানে সেখানে দোকান তৈরি করে তা লক্ষাধিক টাকায় বিক্রিও করা হত। টাকা না দিলেই মারধর করা হত বলেও অভিযোগ। এর পাশাপাশি চলত অত্যাচার।
আগেও হকাররা অভিযোগ করেছেন কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি পুলিশ। তবে এবার শুরু হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খোঁজ খবর। এমনকী এই তোলাবাজির টাকা কোথায় গিয়েছে তাও জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে, ভবানীপুর থানায় বলরাম শিকারি নামে এক অ্যাম্বুল্যান্স মালিকের অভিযোগ, তিনি তাঁর ড্রাইভারের সঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতালে দেখা করতে গেলে কুমার সাহার দলবল তাঁর কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা তোলা চায়। এমনকী আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয়ও দেখানো হয় তাঁকে। অভিযোগ, তাঁকে মারধরও করা হয়েছে। পুলিশ সেই মামলারও তদন্ত শুরু করেছে।
কালীঘাটের আরও এক বাসিন্দা কৌশিক দাস, কুমার সাহার বিরুদ্ধে বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি কর্মী-সহ সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগ থানায় জমা করেন। অভিযোগের সঙ্গে তিনি একটি ফেসবুক পোস্টের উল্লেখও করেন। যে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে কুমার সাহাকে দেখা যাচ্ছে বিজেপি কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে ধমকাতে, চমকাতে। কৌশিকের অভিযোগের ভিত্তিতে কালীঘাট থানা, কুমার সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।
জাকিরুদ্দিন শেখ নামে এক ফল ব্যবসায়ীর দাবি কুমারের সাগরেদরা তাঁর কাছ থেকে ফল এবং শাকসবজি বিনা পয়সায় নিয়ে চলে যায়। ফল দিয়ে তোলার টাকা পরিশোধ করতেন বলে দাবি। এই বিষয়ে টালিগঞ্জ থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ। এছাড়াও একটি হত্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সেগুলিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।




