অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরি এবং আর্থিক অনিয়মের সমস্ত অভিযোগ ঘিরে এখন বিতর্ক তুঙ্গে। ঠিক সেই সময় আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করল শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। ট্রাস্টের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভক্তদের দান এবং অন্যান্য উৎস মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা জমা পড়েছে। তার মধ্যে ২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কাজে খরচ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ভবিষ্যতের নির্মাণকাজ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
ট্রাস্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রামমন্দির নির্মাণ, মন্দির চত্বরের উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং অন্যান্য কাজে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এছাড়া মন্দির পরিচালনা, কর্মীদের বেতন, তীর্থযাত্রীদের পরিষেবা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণের মতো খাতে ব্যয় হয়েছে আরও ৩৯১ কোটি টাকা। প্রণামী হিসেবে পাওয়া সোনা-রুপোর মতো মূল্যবান ধাতু নিয়েও যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে ট্রাস্ট।
তাদের দাবি, দান হিসেবে পাওয়া রুপোর একটি অংশ মন্দির নির্মাণ, অলঙ্করণ এবং ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। কোনও রুপো বা অন্য মূল্যবান ধাতু খোওয়া যায়নি। বাকি মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এমনকী ভক্তদের দেওয়া বেশ কিছু মূল্যবান অলঙ্কার ও সামগ্রী সাধারণ মানুষে বা ভক্তদের সামনে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট।
প্রশ্ন উঠছে, ঠিক এই সময়েই কেন আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হল? ট্রাস্টের বক্তব্য, সমস্ত অভিযোগ এবং জল্পনা ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সব তথ্য জনসমক্ষে আনতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টের দাবি, শুধুমাত্র অভিযোগ বা গুজবের ভিত্তিতে কাউকে দোষী করা উচিত নয়। অভিযোগ থাকলে তার প্রমাণও থাকতে হবে।
অন্যদিকে, প্রণামী চুরির অভিযোগে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তে ইতিমধ্যেই নগদ টাকা, সোনা, রুপো, বিদেশি মুদ্রা এবং কিউআর কোড-সংযুক্ত প্রণামীর বাক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা শুধু আত্মসাৎ করা প্রণামীর অভিযোগই নয়, ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যয় হওয়া সব তথ্যও খতিয়ে দেখছেন।
সূত্রের খবর, সিটের নজরে রয়েছে প্রায় ১২৪ কোটি টাকার খরচ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান, ২০২৫ সালের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং অন্যান্য বড় অনুষ্ঠানের খরচের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানেই খরচ হয়েছিল প্রায় ১১৩ কোটি টাকা। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৮ হাজার অতিথি। বিজ্ঞাপন, সাজসজ্জা, ধর্মীয় আচার, বিতরণের প্রসাদ, বিদ্যুৎ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয়ের হিসাব এখন তদন্তকারীদের হাতে।
তবে ট্রাস্টের দাবি, প্রণামী চুরির ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেটি কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত একটি চক্রের অপরাধমূলক কাজ। ট্রাস্টের সরকারি হিসাব বা আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। সমস্ত আয়-ব্যয় নিয়ম মেনেই করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।




