ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ আলী খামেনির শেষকৃত্য শুরু হতেই ফের তীব্র বাকযুদ্ধে জড়াল তেহরান ও ওয়াশিংটন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। খামেনির শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য ‘মানবিক কারণে’ এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি সংঘাত চলাকালীন ইরানকে বড় ধাক্কা দিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্পের দাবি, সেই কারণেই তেহরান এখন আলোচনার পথে ফিরতে চাইছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যকে ঘিরে ফের নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার থেকেই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। ৯ জুলাই তাঁকে সমাহিত করা হবে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে এখন হাজার হাজার মানুষের ভিড়। সে দেশের মানুষের মুখে এখন একটাই স্লোগান, ‘প্রতিশোধ চাই’, ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’। ইরানের দাবি, যুদ্ধের কারণে খামেনির দাফন এতদিন পিছিয়ে গিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ্ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর টানা সামরিক সংঘাত ও নিরাপত্তার কারণে ইসলামের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়নি। যদিও ইরান প্রশাসনের বক্তব্য, ধর্মীয় বিধি মেনেই তাঁর দেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি কাতারের মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, শেষকৃত্যের আনুষ্ঠান শেষ হলে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।
কিন্তু এর মধ্যেই খামেনির শেষকৃত্যকে ঘিরে একদিকে ইরানে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফল হিসেবে ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক উত্তেজনা ফের বাড়তে শুরু করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।




