• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 2 July, 2026

জ্বালানি সঙ্কটে রাশিয়ার পাশে ভারত, শুরু হল পেট্রল রপ্তানি

গত চার বছরের যুদ্ধে রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার, জ্বালানি কেন্দ্র ও রপ্তানি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের একটি শোধনাগারেও হামলা হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রলের সরবরাহে টান পড়েছে।

জ্বালানি সঙ্কটে রাশিয়ার পাশে ভারত, শুরু হল পেট্রল রপ্তানি

Photo: Magnific

দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে ভারত। তবে এবারের পরিস্থিতিটা একেবারে উল্টো। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে পড়া রাশিয়ার জন্য ভারত থেকেই পেট্রল বা গ্যাসোলিন রপ্তানি শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লি বা মস্কো মুখ খোলেনি।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই ভারত থেকে অন্তত ৬০ হাজার টন পেট্রল রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। আরও কয়েকটি সূত্রের মতে, দু’টি ট্যাঙ্কারে করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন করে জ্বালানি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে মোট ৪ লক্ষ টন পেট্রল বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। এই তালিকায় রয়েছে বেলারুশও। সেখান থেকে ইতিমধ্যেই জ্বালানি আমদানি শুরু হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ায় এই সঙ্কটের মূল কারণ ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা। গত চার বছরের যুদ্ধে রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার, জ্বালানি কেন্দ্র ও রপ্তানি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের একটি শোধনাগারেও হামলা হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রলের সরবরাহে টান পড়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, কোথাও কোথাও জ্বালানি বিক্রিতে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের কাছে পেট্রল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন। রুশ-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোলে গত এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

গ্রীষ্মকালে রাশিয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টন পেট্রলের চাহিদা থাকে। সেই চাহিদা মেটাতেই ভারত-সহ একাধিক বন্ধু দেশের দ্বারস্থ হয়েছে মস্কো। তবে ভারতের কোন শোধনাগার থেকে এই জ্বালানি রপ্তানি হচ্ছে, তা এখনও জানা যায়নি।

সম্প্রতি মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও স্বীকার করেছেন, দেশের কিছু অঞ্চলে জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর চাপও তত বাড়বে। তাই আপাতত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে আমদানির উপরই ভরসা করতে হচ্ছে মস্কোকে।