প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত স্তব্ধ মুম্বাই-সহ মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের একাধিক এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিন মুম্বাই, ঠাণে, পালঘর ও রায়গড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। কোথাও কোথাও ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই বৃহস্পতিবার খৈরানি রোডে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়ার সময় জলমগ্ন খোলা ম্যানহোলে পড়ে যান এক ব্যক্তি। প্রায় দু’ঘণ্টা তল্লাশির পর নিকাশিনালা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বৃহন্মুম্বাই পুরসভা। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুম্বাইয়ের ডেপুটি মেয়র সঞ্জয় ঘাড়ি। তিনি জানান, এই ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ‘হোমিসাইড’ বা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করবে বৃহন্মুম্বাই পুরসভা বা বিএমসি। প্রশাসনের মতে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। খারঘরে এক কিশোর, ভিওয়ান্ডিতে এক যুবক এবং ওয়াকেশ্বরে বাড়ি ভেঙে এক প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে। নবী মুম্বাইয়ে জলমগ্ন রাস্তায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই তরুণী আহত হন। বৃহন্মুম্বাই পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ভন্ডুপ ও সান্তাক্রুজে সর্বাধিক ২৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পওয়াই, আন্ধেরি, পরেল, মানখুর্দ, মরোল, ওয়াডালা ও শিওড়িতেও প্রবল বর্ষণ হয়। এর জেরে আন্ধেরি, দাদার, কুরলা, চেম্বুর, কিংস সার্কল, নবী মুম্বাই-সহ একাধিক এলাকা জলমগ্ন। দাদার স্টেশনের রেললাইন জলের তলায় চলে যাওয়ায় লোকাল ট্রেন ধীরগতিতে চলছে। বহু রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, মাত্র দু’দিন আগেই মুম্বাইয়ের চেম্বুরে একটি স্কুলবাসের উপর গাছ ভেঙে পড়ে ১১ বছরের এক পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় আহত হন আরও চার জন। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে বিএমসি-র এক আধিকারিককে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পালঘরে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আরও সক্রিয় হওয়ায় উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতেও আগামী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জল জমা রাস্তায় চলাচলের সময় বিশেষ সতর্ক থাকার কথাও বলা হয়েছে।




