অযোধ্যায় রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারির তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট জানিয়েছে, ২০২৫-এর কুম্ভমেলার সময়ই মন্দির থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সেই সময় ভক্তদের ঢল নামায় দান ও প্রণামীর পরিমাণও অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছিল অভিযুক্তরা।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আগেও ছোটখাট চুরির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা পরিকল্পনা করেই মন্দিরের অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করতেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দুই ভায়রাভাই লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র সবচেয়ে বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
এদিকে এই মামলায় ধৃতদের হয়ে কোনও আইনজীবী লড়তে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও সদস্য যদি অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন , তবে তাঁকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
তদন্তে অনুদানের ব্যবস্থাপনায় একাধিক গাফিলতির প্রমাণও মিলেছে। অভিযোগ, প্রায় ৪০টি দানবাক্স থেকে টাকা সংগ্রহ ও স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়াতেই বড়সড় ত্রুটি ছিল। নগদ অর্থ পরিচালনার নিয়মও মানা হয়নি। ৪৫ দিন পর সিসিটিভি ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যেত, ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকত না।
পাশাপাশি দানবাক্সে গণনা হওয়া অর্থের সঙ্গে ব্যাঙ্কে জমা পড়া টাকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণও করা হতো না। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তিন মাস আগেই অনিয়মের বিষয়ে ট্রাস্টকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এছাড়া দেশের অন্যান্য বড় মন্দিরে যে ধরনের বহু স্তরের নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা থাকে , রাম মন্দিরে তা ছিল না বলেও অভিযোগ। অযোধ্যার রাম মন্দিরে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতির এই জাল কতটা গভীরে, কতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে , কারা ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।