• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 30 June, 2026

‘আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে’, হুল দিবসে বার্তা মোদীর

প্রধানমন্ত্রী আরও বেশ কিছু কথা উল্লেখ করেছেন নিজের লেখায়। হুল বিদ্রোহের আগুন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল

‘আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে’, হুল দিবসে বার্তা মোদীর

হুল দিবস উপলক্ষ্যে মেতে উঠেছেন আদিবাসী-জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষজন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আবহে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘হুল বিদ্রোহ’-এর বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ‘হুল দিবস’-কে ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায়ের অসামান্য সাহস ও অদম্য উদ্দীপনার এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন। যে সম্প্রদায়ের মানুষ মাতৃভূমির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে আজকের দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে আদিবাসী-জনজাতিদের কাছে। সেই কথা মনে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর তাই সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধা এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রবাদপ্রতিম নেতা সিধো-কানু, চাঁদ-ভৈরব এবং ফুলো-ঝানোর পাশাপাশি ঔপনিবেশিক শাসনের অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সকল সংগ্রামীর কথা স্মরণ করেছেন। নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, ‘হুল দিবস আমাদের সেইসব আদিবাসী সম্প্রদায়ের অসামান্য সাহস এবং অদম্য উদ্দীপনার এক শক্তিশালী প্রতীক, যাঁরা মাতৃভূমির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।’ হুল দিবস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানাবেন এটা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেননি। সেটা এদিনের জন্য অবশ্যই বাড়তি পাওনা। আর এই শুভেচ্ছাবার্তা পেয়ে খুশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আরও বেশ কিছু কথা উল্লেখ করেছেন নিজের লেখায়। হুল বিদ্রোহের আগুন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল। আর সে কথা স্মরণ করেই প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘ভারতের ইতিহাসের এই গর্বের মুহূর্তে, আমি সিধো-কানু, চাঁদ-ভৈরব ও ফুলো-ঝানো-সহ সেই সকল বীর ও বীরাঙ্গনার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করছি, যাঁরা বিদেশি শাসনের অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে। আদিবাসীদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় তাঁদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কাহিনী দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত এবং নতুন শক্তিতে উজ্জীবিত করতে থাকবে।’

তাছাড়া হুল দিবসের একটি ইতিহাস আছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই ইতিহাস সম্পর্কে অবগত নন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের দমন নীতি এবং মহাজন ও জমিদারদের দ্বারা আদিবাসী সম্প্রদায়ের শোষণ বড় আকার ধারণ করেছিল। তার বিরুদ্ধে ১৮৫৫ সালে সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মুর নেতৃত্বে যে ‘সাঁওতাল হুল’ বা সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল, সেটার স্মরণে প্রত্যেক বছর ৩০ জুন তারিখে হুল দিবস পালন করা হয়। এই বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন চাঁদ ও ভৈরব মুর্মু এবং তাঁদের দুই বোন ফুলো ও ঝানো। তাঁদের কথা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের অন্যতম প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে সাঁওতাল বিদ্রোহকে গণ্য করা হয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই বিদ্রোহের ভূমিকা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার, মর্যাদা এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই আন্দোলনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।