রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বিজেপি সরকার। নিয়ম মেনে হবে পিএসসি ও এসএসসি। শিল্প নিয়ে আসা হবে পশ্চিমবঙ্গে। যাতে বিপুল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। ক্ষমতায় আসার আগে এই কথাগুলি বলেছিলেন বিজেপির নেতা-নেত্রীরা। এবার ক্ষমতায় এসে সেগুলি বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর রবিবার সরকারি সমস্ত শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, প্রতি বছর নিয়োগ এবং তা হবে স্বচ্ছভাবে বলে জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এদিকে সদ্য রাজ্য বাজেট পেশ হয়েছে। সেখানেও ব্যাপক কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকী সামাজিক প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরি না হলে রাজ্যের বেকারত্ব যে কমবে না সেটা ভালই বোঝেন বালুরঘাটের সাংসদ। আর তাই নিউটাউনের একটি অনুষ্ঠানে এসে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করার জন্য। তাঁর একটা নির্দিষ্ট রূপরেখা আছে। স্কুল, উচ্চশিক্ষা-সহ নানা সরকারি দপ্তরের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এবার সমস্ত পদ্ধতি মেনে সেই পদগুলিতে নিয়োগ করা হবে।’
অন্যদিকে চাকরি নিয়ে দুর্নীতি করেছিল আগের সরকার বলে অভিযোগ। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য-সহ সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। ফলে বেকার যুবক-যুবতীরা চাকরি পায়নি। চাকরি দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার আর তা হবে না। রাজ্যে বিজেপি সরকার ইতিমধ্যেই বয়স বৃদ্ধি করেছে চাকরির ক্ষেত্রে। সেখানে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ‘স্বচ্ছভাবে সমস্ত সরকারি পদে প্রত্যেক বছর নিয়োগ হবে। সেক্ষেত্রে কেউ যদি টাকা চায়, সরকারের কাছে অভিযোগ জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তাছাড়া রাজ্যে কর্মসংস্থানের বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এবার চাকরি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের বড় ঘোষণা, ‘এসএসসির ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষা বা ইন্টারভিউতে নিয়ম করে বেশি নম্বর দিয়ে দেওয়া চলবে না। পার্সোনালিটি টেস্টের যে পরিমাণ নম্বর থাকার প্রয়োজন তা থাকবে। যুবক-যুবতীদের চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির জন্য প্রতি দু’তিন মাস অন্তর চাকরি মেলার আয়োজন করা হবে। নতুন সরকার এখনও কাজের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ধীরে ধীরে প্রশাসনিক গতি বাড়ছে এবং আগামী দিনে শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। রাজ্য সরকার প্রযুক্তিগত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। শক্তিশালী এমএসএমই ক্ষেত্রই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’




