• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 25 July, 2026

‘নতুন বিধানসভা ভবন তৈরি করতে হবে’, নিউটাউনে জমি দেখতে স্পিকারকে আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর

নিউটাউনে ৪০ একর জমি গত তৃণমূল সরকার বরাদ্দ করে গিয়েছে। একই ক্যাম্পাসে বিধানসভা ভবন, বিধায়কদের আবাস

‘নতুন বিধানসভা ভবন তৈরি করতে হবে’, নিউটাউনে জমি দেখতে স্পিকারকে আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

নয়াদিল্লিতে সংসদ ভবন থাকা সত্ত্বেও নতুন করে সংসদ ভবন তৈরি হয়েছে। তা নিয়ে নানা সমালোচনা করেছিলেন বিরোধী নেতারা। এবার শহরের বুকে বিধানসভা ভবন থাকার পরও নিউটাউনে তৈরি হতে চলেছে নতুন বিধানসভা ভবন। আর তার প্রস্তুতি শুরু করার আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে জমি পরিদর্শন করার অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে পূর্তদপ্তর ও অন্যান্য নির্মাণকারী সংস্থাকে নিয়ে পরিদর্শন করার কথা বলেছেন তিনি। এই কথা চাউর হতেই বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে শুরু করেছে বিরোধীরা।

কলকাতা শহরের বুকে ঐতিহ্যবাহী বিধানসভা ভবন রয়েছে। তারপরও কেন আর একটা বিধানসভা ভবন নিউটাউনে করতে হচ্ছে? এই প্রশ্ন বিরোধীদের অনেকেরই। কিন্তু এখনই বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খোলেননি। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাজেট অধিবেশনের ধন্যবাদ জ্ঞাপন ভাষণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘নতুন বিধানসভা ভবন তৈরি করতে হবে। লোকসভার মতো।’ কিন্তু কেন এমন করতে হবে? মুখ্যমন্ত্রী আসলে দূরদর্শী চিন্তা করেই বিষয়টি বলেছেন। কারণ যদি আসন পুনর্বিন্যাস এবং ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ হয় তাহলে এখনকার বিধানসভায় বিধায়কদের বসার জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসন রয়েছে। তাহলে ২৯৪টি বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে আসেন। তাঁদের বসার জায়গা হয় কলকাতায় থাকা বিধানসভা ভবনে। সেখানে আসন সংখ্যা বেড়ে গেলে বিধায়ক সংখ্যাও বেড়ে যাবে। তাঁরা তখন বসবেন কোথায়? সেই চিন্তা এখন থেকেই করে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই শুভেন্দু অধিকারী স্পিকারকে অনুরোধ করেন, ‘সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে জায়গা পরিদর্শন করুন। পূর্ত দপ্তর ও অন্যান্যদের সঙ্গে নিয়ে যান। প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এখন থেকেই। বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৯৪। আসন পুনর্বিন্যাস এবং ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ হলে সেটা ৪০০ আসনের উপর হয়ে যাবে। এখানে বসার জায়গা হবে না। তাই এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে। অর্থমন্ত্রীকে সাক্ষী রেখে বলছি, অর্থ সমস্যা হবে না। কোভিডের সময় যখন দূরে দূরে বসাতে হয়েছিল মনে আছে গ্যালারীর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল আসন। পুরনো বিধায়কদের মনে আছে।’

তাছাড়া নিউটাউনে ৪০ একর জমি গত তৃণমূল সরকার বরাদ্দ করে গিয়েছে। একই ক্যাম্পাসে বিধানসভা ভবন, বিধায়কদের আবাস, বিধানসভা সচিবালয় তৈরির প্রস্তুতি সেখানে সেরে রাখা হয়েছে। সেখানেই আধুনিক মানের বিধানসভা তৈরি করা হবে বলে সূত্রের খবর। তবে এখন কলকাতার বিধানসভা ভবন হেরিটেজ বিল্ডিং। সে কথাও মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কী কাজে ব্যবহার হবে সেটা সময়ই বলবে। তবে এই বিল্ডিং হেরিটেজ। বিধায়ক ভবন, বিধানসভার ক্যান্টিনের মান উন্নয়ন করতে হবে। নতুন বিধায়করা লাইব্রেরীতে গিয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করুন। বিধায়কদের হাজিরা ও পারফন্সমেন্স কেমন সেটা জানাতে নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করাও হবে।’