তিন দিনের সফরে শনিবার সেশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই তাঁর এই সরকারি সফর। সেশেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে নেমেই প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফর হবে বলে আমি আশাবাদী।’ ২০১৫ সালের পর এটিই এই দ্বীপরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।
পরে এক্স পোস্টে মোদী লেখেন, ‘সেশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনি যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এই দ্বীপরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের আমাদের এক মূল্যবান সামুদ্রিক সঙ্গী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমার এই সফরের লক্ষ্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা।’ মোদী তাঁর এক্স পোস্টে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার কিছু ছবিও শেয়ার করে তাঁকে স্বাগত জানাতে আসা প্রবাসী ভারতীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘প্রবাসী ভারতীয়দের এই ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
উল্লেখ্য, এই দ্বীপরাষ্ট্রের জাতীয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে সেশেলস। এবার সেশেলসের স্বাধীনতা অর্জনের ৫০তম বর্ষপূর্তি। রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করার কথা মোদীর। তিনদিনের এই সফরে মোদী বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলচর প্রাণী কচ্ছপ জনাথনকে দেখতে যাবেন। জনাথনকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। প্রধানমন্ত্রী এক্স-এ আরও লিখেছেন, ‘আমি আমার বন্ধু, সেশেলস প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে আলোচনার জন্য মুখিয়ে আছি।’ এই সফরে সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে একটি ভাষণ দেবেন মোদী। এ প্রসঙ্গে মোদী এক্সে লিখেছেন, ‘সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভাষণ দিতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। আমি সেখানকার ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্যও উন্মুখ।’
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দুই নেতা ভারত-সেশেলস সম্পর্কের সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উন্নয়নমূলক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও কথা বলবেন। বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে। এই সফর দুই দেশের সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।




