• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

যোগ্যরাই কাজ করবে টলিউডে, বুঝিয়ে দিলেন রুদ্রনীল

টলিউডে আর অযোগ্যদের দাপাদাপি চলবে না। বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে গুণীরাই শিল্পীরা। এমনটাই জানিয়ে দিলেন রুদ্রনীল ঘোষ।

যোগ্যরাই কাজ করবে টলিউডে, বুঝিয়ে দিলেন রুদ্রনীল

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে বদলে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চিত্র। আর সেই বদলের আঁচ এসে পড়েছে টলিউডেও। একাধিক নামী শিল্পী থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান, সকলেই আওয়াজ তুলেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আর এতটাই প্রবল ভাবে আওয়াজ তুলেছেন যে তা পৌঁছে গিয়েছে সকলের রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে আমজনতার কানেও।

 

আজ শনিবার, কলকাতা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। সঙ্গে ছিল  সাহিত্য সংস্কৃতি শিল্পী সংঘ, অ্যাসোসিয়েশন ফর বেঙ্গল ফর লিটারেচার অ্যান্ড কালচার এর একাধিক শিল্পীরা। আর আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনে উঠে এসেছে তৃণমূল জমানায় যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ না পাওয়া, স্বজনপোষণ ও টলিপাড়ায় চললা রাজনীতি নিয়েও।

 

সাংবাদিকদের সামনে রুদ্রনীল জানান, ১৫ বছরের তৃণমূল এবং তার আগে ৩৪ বছরের সিপিএম আমলে শিল্পের রাস্তায় দখলদারি করা হয়েছে। আর তার ফল ভুগেছে হাজার হাজার গুনী শিল্পীরা। একসময়ে বাংলা গোটা বিশ্বের সামনে চিহ্নিত হত কালচারাল ক্যাপিটাল অফ ইন্ডিয়া হিসেবে। কিন্তু সেই গৌরব আজ আর নেই। যাতে তা ফিরিয়ে আনা যায় সেই চেষ্টা চলছে। আর রাজ্যসরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

আজ সাংবাদিক সম্মেলন করে রুদ্রনীল স্পষ্ট করে দিয়েছেন টলিপাড়ায় স্বজনপোষণ এবং কাজ নিয়ে রাজনীতিকরণের দিন শেষ। স্পষ্ট করে দিয়েছেন টলিপাড়ায় ঝাড়াই বাছাই চলছে। প্রচুর গুণী মানুষ রয়েছেন। সকলেই যাতে কাজ পান সেদিক দেখা হবে। তিনি আরও বলেন তথ্য সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতা পূর্ণিমা চক্রবর্তী চারিদিক নজরে রাখছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সকলের সঙ্গে কথাও বলছেন বলে জানান।

 

তিনি আরও বললেন, রাজ্যে বিগত সরকারের আমলে যেভাবে স্বজনপোষণ করে প্রতিভা নষ্ট করা হয়েছে সেই বিষয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর সবটাই জানে। সেই সসময় স্বজন পোষণ হয়েছে ঠিকই তবে তা হয়েছে তৃণমূলের দলের কাছে কে রয়েছে তার ভিত্তিতে। যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়। স্পষ্ট করে দিয়েছেন অনেককে অনেক কিছু অনৈতিকভাবে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে সেই সময়। বুঝিয়ে দিয়েছেন পুরোনো সরকারের আমলে থাকা অযোগ্যরা যেভাবে সরকারের কাছে থাকার সুবাদে নিজের আখের গুছিয়েছেন তা হবে না। কাজ পাবেন যোগ্যরা। কাজ করবেন মাথা উঁচু করে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালক-নাট্যকার সৌরভ পালধীকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি বিতর্ক। তা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন সৌরভ নিজের নাটকের দলকে সিপিএমের প্রচারের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণে অভিনেতা কৌশিক কর কে দল থেকে বাদ দেওয়ার পরে যেভাবে ‘চল ফোট’ সমাজ মাধ্যমে লিখেছিলেন তা নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি। বলেন পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে যে হারে ডিম বিক্রি হচ্ছে, প্রচুর মানুষ চাইলেই আক্রমণ করতে পারতেন। কিন্তু কাউ করেননি। কারণ তা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। বুঝিয়ে দিয়েছেন ভদ্রতাকে যেন কেউ দুর্বলতা হিসেবে না দেখে।

 

আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শিল্পীদের পেটের ভাতের দরকার পরে। কিন্তু অতীতের সরকার সেটা তো দেয়ই নি বরং চাল ডাল সব চুরি করেছিলেন। সেই সময় পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি চলেছিল। আর আজ পালাবদলের পরে যারা যোগ্য হয়েও বঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা তাদের সবকিছু সরকারকে বলছেন, তথ্য সংস্কৃতি দফতরকে বলছেন। কারণ তারা বিশ্বাস করছেন এই সরকার তাঁদের সেই প্রাপ্য পাইয়ে দিতে পারবেন। রুদ্রনীল বুঝিয়ে দিয়েছেন যারা যোগ্য তারা স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবেন।