• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

ইজরায়েল-লেবানন মধ্যে স্বাক্ষরিত হল চুক্তি, তবে বাস্তবায়নে রয়েছে সংশয়

শুক্রবার ওয়াংশিটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়

ইজরায়েল-লেবানন মধ্যে স্বাক্ষরিত হল চুক্তি, তবে বাস্তবায়নে রয়েছে সংশয়

আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। শুক্রবার ওয়াংশিটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মূল লক্ষ্য, লেবাননে ইজরায়েলি সেনা এবং হিজবুল্লার মধ্যে চলা সংঘর্ষ থামানো এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরই হিজবুল্লা জানিয়ে দিয়েছে, তারা এর বাস্তবায়নে কোনও সহযোগিতা করবে না। ফলে শুরু থেকেই এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি নিহত হন। তার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। সেই ঘটনার পর হিজবুল্লা ইজরায়েলের উপর হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পাল্টা ইজরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালায় এবং সীমান্তের একাধিক এলাকায় সেনা মোতায়েন করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে এই সংঘাতে লেবাননে চার হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লার হামলায় ইজরায়েলের ৩২ জন সেনা আধিকারিক এবং চারজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যেকার সংঘর্ষবিরতির পথে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল লেবাননে চলা সংঘাত। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ না করলে তারা কোনও শান্তি-উদ্যোগে এগোবে না। সেই প্রেক্ষাপটেই আমেরিকার উদ্যোগে এই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে লেবনানের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে ইজরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে দু’টি ‘পাইলট জোন’ থেকে সেনা সরানো হবে। এরপর সেই অঞ্চলগুলির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, এই চুক্তি দেশের জনগণের জন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ভবিষ্যতের পথ খুলে দেবে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবেন।

চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো জানিয়েছেন, একটি ত্রিপাক্ষিক সামরিক সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপুঞ্জের সহযোগিতায় ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা এবং লেবাননের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে আবারও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দুই পক্ষই একে অপরকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে ইজরায়েল-লেবানন চুক্তি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কি না, তা এখন সময়ই বলে দেবে।