• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 25 June, 2026

বিজেডিতে যোগ দিলেন ওড়িশার প্রাক্তন আইএএস সুজাতা রাউত কার্তিকেয়ন

তিনি কটক জেলার প্রথম মহিলা জেলাশাসক ছিলেন

ওড়িশার প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক সুজাতা রাউত কার্তিকেয়ন বিজু জনতা দল (বিজেডি)-তে যোগ দিয়েছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, পুষ্টি, ক্রীড়া এবং গ্রামীণ উন্নয়নে একাধিক উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের জন্য তিনি পরিচিত। সুজাতা রাউত কার্তিকেয়ন দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার। পরে জহওরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান।

তিনি ২০০০ ব্যাচের আইএএস অফিসার। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি থেকে তিনি অশোক বোমবাওয়ালে পুরস্কার পান। এই পুরস্কার সেরা অফিসার প্রশিক্ষণার্থীর সম্মান হিসেবে দেওয়া হয়। পরে তিনি নিজের রাজ্য ওড়িশা ক্যাডারে যোগ দেন।

সুন্দরগড় জেলার জেলাশাসক থাকাকালীন তিনি নকশালপ্রবণ এলাকায় উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ২০০৫ সালে একটি সাইকেল প্রকল্প চালু করেনও। আদিবাসী কিশোরীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। ব্যাঙ্কের সাহায্যে ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরে এই প্রকল্পটি ওড়িশার সরকারি স্কুলে চালু করা হয়।

সুন্দরগড়ে তিনি ফুটবল কালেক্টর হিসেবে পরিচিতি পান। ঝাড়খণ্ড ও ছত্তীশগড় সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে ফুটবল ও হকি সরঞ্জাম বিতরণ করে তিনি যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করেন।যাতে নকশাল কার্যকলাপ বা মাদকের প্রভাব থেকে দূরে যুবসমাজকে রাখা যায়।

২০০৬ সালে সুন্দরগড় জেলার সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল প্রকল্পে তিনি প্রথম ডিম অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে তা গোটা রাজ্যে চালু করা হয়।

তিনি কটক জেলার প্রথম মহিলা জেলাশাসক ছিলেন। পরে রাজ্য সরকারের সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বেই চালু হয় জনপ্রিয় ‘মমতা প্রকল্প’। যা গর্ভবতী ও সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। এই প্রকল্পের অনুপ্রেরণায় পরবর্তীকালে কেন্দ্রের ইন্দিরা গান্ধী মাতৃত্ব সহায়তা প্রকল্প চালু হয়।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি মিশন শক্তি কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। যা নবীন পট্টনায়কের অন্যতম প্রধান প্রকল্প। তাঁর নেতৃত্বেই এই কর্মসূচি ৭০ লক্ষ মহিলার এক শক্তিশালী সামাজিক ও অর্থনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়।

মিশন শক্তির মূল লক্ষ্য ছিল মহিলাদের পরিচয় ও ক্ষমতায়ন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়মিত দুবাই ও সিঙ্গাপুরে শিক্ষামূলক সফরে পাঠানো হত। তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য ওড়িশার বিভিন্ন জেলায় মিশন শক্তি বাজার গড়ে তোলা হয়। ভুবনেশ্বরে একটি বিশেষ বুটিক স্টোর চালু করা হয়। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেট ভুবনেশ্বরের ওই স্টোর পরিদর্শন করে শহুরে বাজারে কৃষিজ পণ্যের বিপণন ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিলেন।