ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রই দেশের নিরাপত্তার প্রধান ভরসা। এবার এমনটাই দাবি করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাকিস্তান সফরে গিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে আমেরিকা ও ইজরায়েল গাজার মতোই তাঁর দেশের উপর নির্বিচারে হামলা চালাত।
এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘রানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হল ক্ষেপণাস্ত্র।’ তিনি জানিয়েছেন, সামরিক ক্ষমতা না থাকলে আমেরিকা ও ইজরায়েল কোনও বাধা ছাড়াই ইরানের উপর আঘাত আনত। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষও এর শিকার হতেন। তাঁর কথায়, ‘গাজার মতো ইরানকেও গুঁড়িয়ে দিত। বৃদ্ধ, তরুণ বা শিশু কেউ রক্ষা পেত না।’ সেই সঙ্গে তিনি মানবাধিকার নিয়ে আমেরিকার অবস্থানকে ‘ভণ্ডামি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা নিয়ে তেহরান কোনও অবস্থাতেই আলোচনা করবে না। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীর কোনও উল্লেখ নেই বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, কিছু দেশের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে আর ইরানের থাকবে না, এমন দ্বৈত নীতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
পেজেশকিয়ানের এই দাবিকে সমর্থন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, ‘আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী আলোচনার বিষয়ই ছিল না।’ তাঁর দাবি, আলাচনার টেবিলে এমন কোনও প্রসঙ্গ ওঠেনি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে ইজরায়েলও সেই অভিযানে যোগ দেয়। পাল্টা জবাব দেয় ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি ও ইজরায়েলকে লক্ষ্য করেও তেহরান একাধিক হামলা চালায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন ও তেহরান।
এর পরের ধাপে দীর্ঘ আলোচনার মধ্যে দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার শান্তি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির ফলে ইরানের তেল রপ্তানির উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালানোর পথও খোলা রাখা হয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শনকে ঘিরে নতুন করে মতবিরোধ শুরু হয়েছে।
আমেরিকার দাবি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-কে ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তেহরান আগেই সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু ইরান এখন বলছে, কোনও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে তাদের পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প আবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি পরমাণু পরিদর্শনে প্রবেশের অনুমতি না দেয়, তাহলে তার ফল ভালো হবে না।




