• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 14 June, 2026

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যে বিজেপি ? তৃণমূলের পর কি এবার উদ্ধব শিবসেনা নিশানায়

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, উদ্ধব ঠাকরের দলের ৭ জন লোকসভা সাংসদ শিণ্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এমনকী দিল্লিতে তাঁদের বৈঠকও হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে

Image: IANS

লোকসভায় আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে বিজেপি ও এনডিএ-র বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর কৌশল আরও স্পষ্ট হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন বা বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনই এখন শাসক শিবিরের অন্যতম লক্ষ্য।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ এনডিএতে যোগ দিতে আগ্রহী বলে খবর ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি, তবু রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইছে বিজেপি।

এবার একই ধরনের জল্পনা শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। কয়েকদিন আগে একনাথ শিণ্ডের শিবসেনা এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ইউবিটি ফের এক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, উল্টে উদ্ধব শিবিরেই বড় ভাঙন দেখা দিতে পারে। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, উদ্ধব ঠাকরের দলের ৭ জন লোকসভা সাংসদ শিণ্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এমনকী দিল্লিতে তাঁদের বৈঠকও হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

যদি একসঙ্গে এতজন সাংসদ দল বদল করেন, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে উদ্ধব শিবির এই দাবি পুরোপুরি খারিজ করেছে। দলের নেতা সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, শিবসেনা ইউবিটি সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং ভাঙনের কোনও প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, এসব রাজনৈতিক গুজব ছাড়া আর কিছু নয়।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে শিবসেনায় ভাঙন ধরিয়ে একনাথ শিণ্ডে আলাদা শিবির গড়েছিলেন। পরে এনডিএ-র সমর্থনে তিনি মুখ্যমন্ত্রীও হন। একইভাবে এনসিপিতেও ভাঙন দেখা যায় অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বে। ফলে মহারাষ্ট্রে বিরোধী শিবিরে ভাঙনের নজির নতুন নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হল দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করে নিজেদের সাংগঠনিক ও সংসদীয় শক্তি আরও বাড়ানো। সেই কারণে তৃণমূলের পর উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাকেও সম্ভাব্য ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও শেষ পর্যন্ত এই জল্পনা কতটা বাস্তবে পরিণত হয় সেদিকেই এখন নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।