• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বহুবছর ধরে খারাপ বলে তারই জেরে কেউ কারও দেশে গিয়ে ক্রিকেট সিরিজ খেলে না। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নেমে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে ইরানের ফুটবল দল! বিশ্বকাপ ফুটবলই পারে এমন অভাবনীয় ঘটনা ঘটাতে

এমন বিশ্বকাপ কখনও দেখা গিয়েছে, যেখানে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত দুই দেশ একই আসরে খেলছে? শুধু তাই নয়, এক যুযুধান দেশ আবার তাদের শত্রুভূমিতে ঢুকে খেলছে! বিশ্বকাপ ফুটবলই পারে এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটাতে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বহুবছর ধরে খারাপ বলে তারই জেরে কেউ কারও দেশে গিয়ে ক্রিকেট সিরিজ খেলে না। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নেমে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে ইরানের ফুটবল দল! বিশ্বকাপ ফুটবলই পারে এমন অভাবনীয় ঘটনা ঘটাতে।

এ বছরই ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। মার্কিন হামলায় ইরানের হাজারো নিরপরাধ মানুষ, এমনকী শিশুও নিহত হয়েছে। তবু ইরান ফুটবল সংস্থা রাজি হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে গিয়ে ফুটবল খেলতে। ফুটবলের স্বার্থে মার্কিন সরকার তা মেনে নিলেও নানা ভাবে হেনস্থা করছে ইরানের ফুটবল দল ও সমর্থকদের।

এ বার যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই বিশ্বকাপেই মাঠে একে অপরের মুখোমুখি হয়, তা হলে কী হবে, তা ভেবেই আতঙ্কে বুক দুরুদুরু করতে পারে দুই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের। ফিফার বিশ্বকাপ ক্রীড়াসূচী অনুযায়ী, এমন সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। গ্রুপ পর্বের পর দ্বিতীয় রাউন্ডেই মুখোমুখি হতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নক আউট পর্বে সেই ম্যাচ হলে যে নিরাপত্তার বহর উঠবে চরমে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই।

এমনিতেই সাম্প্রতিক যুদ্ধের জেরে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিয়ে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে এক আন্তর্জাতিক সেনা বেষ্টনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে পুরো ইরান দল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার অনুমতি নিয়ে তাদের মূল বেস ক্যাম্প মার্কিন শহর অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিজুয়ানায় নিয়ে গিয়েছে। সেখানে উপস্থিত এক সাংবাদিককে ফোন করে জানা গেল, হোটেল এবং প্র্যাকটিস মাঠে ইরান দলকে পাহারা দিতে মেক্সিকান আর্মি এবং ন্যাশনাল গার্ডের ৩০০-রও বেশি সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ফুটবলারদের বাস যখন অনুশীলনের জন্য বেরোচ্ছে, তখন সেটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখছে সেনার কনভয়।

মার্কিন সরকারের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগ ইরান দলকে তাদের দেশে প্রবেশ করার ছাড়পত্র দিলেও এক কঠিন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে। সেই শর্ত অনুযায়ী, ইরান দল শুধুমাত্র ম্যাচের ঠিক আগের দিন আমেরিকার আকাশসীমায় ঢুকতে পারবে। লস অ্যাঞ্জেলিস বা সিয়াটেলে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেই বিমান ধরে তাদের আবার মেক্সিকোর ক্যাম্পে ফিরে যেতে হবে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রোটোকলের অজুহাতে দলের ম্যানেজার, মিডিয়া ডিরেক্টর এবং ফুটবল অ্যানালিস্ট সহ দলের ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করে দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলিসে ইরানের বিশাল সংখ্যক প্রবাসী মানুষের বসবাস থাকায়, সেখানে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলিতে বড়সড় সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের আশঙ্কায় স্টেডিয়াম ও ফ্যান জোনের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সেখানে আবার বিশ্বকাপে ইরান দলের অংশগ্রহণে আপত্তি জানিয়ে বিক্ষোভও দেখিয়েছে একদল জনতা।

স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনীতি বন্ধ করতে ফিফা কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে, যার ফলে ইরানের কোনও প্রাক-বিপ্লব আমলের পতাকা (সিংহ ও সূর্যের প্রতীক-সহ) বা রাজনৈতিক পোশাক নিয়ে মাঠে ঢোকা যাবে না। ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, গ্যালারিতে শাসনব্যবস্থা বিরোধী কোনও স্লোগান উঠলে বা আপত্তিকর প্রতীক দেখা গেলে তারা মাঠ থেকে দল তুলে নিতে বাধ্য হবে। এর মধ্যে আবার ইরানের ফুটবল সংস্থা অভিযোগ করেছে তাদের সমর্থকদের বেশিরভাগ টিকিটই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে ফিফা।

‘জি’ গ্রুপে ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৫ জুন, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, ২১ জুন বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে এবং ২৬ জুন মিশরের বিরুদ্ধে। প্রথম দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলিসে ও তৃতীয় ম্যাচ সিয়াটেল-এ। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে গ্রুপ ডি-তে, যেখানে তাদের প্রতিদ্বন্দী প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া এবং তুরস্ক।

কিন্তু কী ভাবে মুখোমুখি হতে পারে এই দুই দেশ? ফিফা বিশ্বকাপের যে সূচী প্রকাশ করেছে, সেই সূচী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান— দুই দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে রানার্স-আপ হয়ে নক আউট পর্যায়ে পৌঁছয়, তা হলে ৩২ দলের রাউন্ডে তাদের একে অপরের মুখোমুখি হতে হবে এবং যে কোনও একটি দল সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাবে।

যদি সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে দুই দেশের ফুটবল-যুদ্ধ দেখা যাবে ৩ জুলাই টেক্সাসের আর্লিংটনে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ম্যাচটি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের (৪ জুলাই) ঠিক এক দিন আগে। সেই ম্যাচ যদি হয়, তা হলে যে তা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নয়া নজির গড়বে এইৃ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।