টলিগঞ্জের বিনোদন জগতে গত কয়েক মাস ধরেই অস্থিরতা, সাংগঠনিক টানাপোড়েন এবং ক্ষমতার সমীকরণ বদলের জল্পনা চলছিল। সেই আবহেই এবার সামনে এল নতুন বিতর্ক। একটি ভাইরাল ই-মেলকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, যে ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে, সেই ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (FCTWEI)-র নাম ব্যবহার করেই জারি হয়েছে নতুন নির্দেশিকা।
ভাইরাল হওয়া ই-মেলে দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে সমস্ত প্রশাসনিক যোগাযোগ, কাজের অনুমতি এবং অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয় নির্দিষ্ট একটি ই-মেল আইডির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশিকা জারি করেছে কে, কোন কর্তৃত্বে করেছে এবং এর পিছনে কোনও সরকারি বা প্রশাসনিক অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
বিতর্ক আরও বেড়েছে কারণ কয়েকদিন আগেই টলিউডের পরিচিত মুখ ও সংগঠক পাপিয়া অধিকারী জানিয়েছিলেন, বর্তমান কাঠামোয় ফেডারেশনের অস্তিত্ব কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই অবস্থায় ফেডারেশনের নাম, লোগো এবং যোগাযোগের তথ্য ব্যবহার করে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে শিল্পমহলে।
এই বিষয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনও সরকারি তথ্য নেই। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন নবান্নে টলিউড শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারী-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। বৈঠকে শিল্পী, কলাকুশলী, টেকনিশিয়ান এবং প্রযোজকদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এরপরই সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় যে ফেডারেশনের পরিবর্তে Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation (EIMPCC) নামে নতুন একটি কনফেডারেশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই নতুন সংগঠনের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
এদিকে ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। ফলে পুরনো সংগঠনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু সরকারি ভাবে ফেডারেশন বিলুপ্ত ঘোষণা না হওয়ায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।
টলিগঞ্জের একাংশের মতে, এই বিতর্ক কেবল একটি ই-মেলকে কেন্দ্র করে নয়, বরং বাংলা বিনোদন জগতের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার কাঠামো নিয়েও। ফেডারেশন থাকবে, নাকি নতুন কনফেডারেশন গড়ে উঠবে— সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এতটুকু নিশ্চিত, টলিগঞ্জের সাংগঠনিক রাজনীতির এই অধ্যায় আগামী দিনে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে চলেছে।




