সিকিম থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমেছে সিকিম ও উত্তরবঙ্গজুড়ে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দু’দিন পর রবিবার করোনেশন সেতুর কাছে তিস্তা নদীর গর্ভ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁদের গাড়ি। গাড়ির ভিতর থেকেই এক শিশু-সহ চার জনের দেহ উদ্ধার করেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, প্রবল বৃষ্টি, পাহাড়ি ধস এবং আকস্মিক জলস্রোতের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম স্মারিকা নিউপানি, সায়েনি নিউপানি, টিকা মায়া দাহাল এবং দিত্যা ছেত্রী। পরিবারের এক সদস্যের চিকিৎসা চলছিল শিলিগুড়িতে। তাঁকে দেখতে শুক্রবার সিকিম থেকে গাড়ি নিয়ে রওনা হয়েছিলেন এই চার জন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পরেও তাঁরা শিলিগুড়িতে পৌঁছননি। এরপর থেকেই উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
শুক্রবার বিকেলে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের রোম্বি এলাকায় পৌঁছনোর পর বাড়ির লোকেদের সঙ্গে তাঁদের শেষবার কথা হয়। তারপর থেকেই মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁদের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় কোনও খোঁজ না মেলায় আত্মীয়রা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
এরই মধ্যে শুক্রবার বিকেল থেকে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। সেবক এবং করোনেশন সেতুর মাঝামাঝি অঞ্চলে বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ঝরনা হঠাৎ ফুলেফেঁপে ওঠে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় ধস নামার খবরও পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের অনুমান, এমনই একটি ঝরনার তীব্র জলস্রোত এবং ধসের ধাক্কায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে সরাসরি তিস্তা নদীতে পড়ে যায়।
নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার সকাল থেকেই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সিকিম প্রশাসন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং এনডিআরএফ যৌথভাবে অনুসন্ধান চালায়। নদীর বিভিন্ন অংশে বিশেষ ডুবুরি দল নামানো হয় এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে তল্লাশি চালানো হয়।
অবশেষে রবিবার করোনেশন সেতুর কাছাকাছি তিস্তার গভীর জল থেকে উদ্ধার হয় নিখোঁজ গাড়িটি। এনডিআরএফ-এর উত্তরবঙ্গের কমান্ডার অজয় কুমার জানান, উদ্ধার হওয়া গাড়ির ভিতর থেকেই চারজনের দেহ পাওয়া গিয়েছে। দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারাও। বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এনে দিল এই দুর্ঘটনা।




