ডানলপ ব্রিজের নিচে হনুমান মন্দির সংলগ্ন একটি গুমটি থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। বরানগর থানার পুলিশ একটি ট্রাঙ্কের ভিতর থেকে প্রায় ৩৮ কেজি ৭৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মাদকচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপির মণ্ডল ৪-এর কার্যকর্তারা ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নজর রাখছিলেন। তাঁদের কাছে খবর আসে যে, ডানলপ ব্রিজের নিচে একটি গুমটিকে কেন্দ্র করে অবৈধ মাদক ব্যবসা চালানো হচ্ছে। সেই তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হলে বরানগর থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালায়।
তল্লাশির সময় একটি ট্রাঙ্কের ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া গাঁজার মোট ওজন প্রায় ৩৮ কেজি ৭৩০ গ্রাম। এত বিপুল পরিমাণ মাদক একসঙ্গে উদ্ধার হওয়ায় তদন্তকারীদের অনুমান, এটি কোনও বৃহৎ মাদক পাচার চক্রের অংশ হতে পারে।
বিজেপির অভিযোগ, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবার চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও নাকি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার অভাবেই এতদিন ধরে এই বেআইনি ব্যবসা চলতে পেরেছে।
অন্যদিকে, পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে মাদকের উৎস কোথায়, কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ গাঁজা সেখানে পৌঁছল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করেছে তদন্তকারী দল।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে কোনও আন্তঃজেলা বা আন্তঃরাজ্য যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে আরও কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




