দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা রাজধানীর স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় ক্রয় সংস্থাতে কর্মরত ৪০ জনেরও বেশি চিকিৎসক, প্যারামেডিক্যাল এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি করেছেন। দিল্লির জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে সরকার দায়বদ্ধ। এ ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বা শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাস্ত করা হবে না।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিপিএ-র হেড অফ অফিস ডাক্তার বিনোদ কুমার রঙ্গাসহ ১০ জন চিকিৎসকের বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্যারামেডিক্যাল পরিষেবা আরও কার্যকর করতে ১৯ জন কর্মচারীকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ফার্মাসিস্ট, জুনিয়র মেডিক্যাল ল্যাব টেকনিশিয়ান, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট এবং চালক।
Advertisement
মুখ্যমন্ত্রী জানান প্রশাসনিক কাজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সেকশন অফিসার, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ও জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পদমর্যাদার ১০ জন কর্মচারীকেও বদলি করা হয়েছে। মানবসম্পদ পর্যালোচনার সময় সিপিএ-তে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবস্থার মূল্যায়ন করা হয়।
Advertisement
এছাড়া যে সব কর্মচারী সিপিএ-র বেতন কাঠামোর আওতায় থাকলেও অন্য দপ্তর কর্মরত, তাদের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে খবর। এর পাশাপাশি আরও কিছু কর্মীকে সিপিএ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিপিএ দিল্লি সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। যেখানে থেকে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী ক্রয় ও সরবরাহের কাজ পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থকা আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও দপ্তর থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সিপিএ-র সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১২ জন চিকিৎসা কর্মকর্তাকে সিপিএ-তে নিয়োগ করা হয়েছে। এঁদের মধ্য সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার, মেডিক্যাল অফিসার এবং সিএমও পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তাঁদের যোগদানের ফলে ক্রয় সংরক্ষণ, সরবরাহ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আরও বলেন, বিভাগীয় কাজের গতি বাড়াতে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। প্রজেক্ট শাখা, কেয়ারটেকিং শাখা, স্টোর ও ক্রয় শাখা, কম্পিউটার সেল, মোবাইল হেলথ স্কিম, পিজিএমএস, আরটিআই, শিশু অধিকার, স্বাস্থ্য মেলা, হাসপাতাল সমন্বয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্টোর ও ক্রয় শাখা এবং সিপিএ সংক্রান্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দিল্লি সরকারের লক্ষ্য স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিটি ইউনিটকে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ প্রদান করা এবং প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও মজবুত করা। দিল্লিবাসী সময়মতো এবং উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা যাতে দিল্লিবাসী পায় তা দেখতে সরকার প্রতিশ্রুতবদ্ধ।
Advertisement




