বলিউডের সাম্প্রতিক স্পাই-থ্রিলার ছবি ‘ধুরন্ধর-২: রিভেঞ্জ’ ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ছবিতে দেখানো ‘বড়সাহেব’ নামের একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়েছে কুখ্যাত অপরাধচক্র ডি কোম্পানি। কারণ, ওই চরিত্রের চেহারা, আচরণ ও কথাবার্তার ধরন পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ছবির পরিচালক আদিত্য ধর এবং তাঁর টিমকে নিয়ে ডি কোম্পানির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ছবির নির্মাতাদের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে গোয়েন্দা মহলের দাবি, ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার পর থেকেই ডি কোম্পানির একাংশ নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
Advertisement
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ডি কোম্পানির উদ্দেশ্য মুম্বইয়ে আবার নিজেদের উপস্থিতি জাহির করা এবং দাউদ ইব্রাহিম এখনও সক্রিয় ও প্রভাবশালী—এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানে আত্মগোপন করে থাকা দাউদকে ঘিরে নানা জল্পনা রয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা তথ্য সামনে এলেও কোনও নির্ভরযোগ্য সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
Advertisement
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ডি কোম্পানির দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত শাকিল শেখ ওরফে ছোটা শাকিল এখনও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পাকিস্তান ও আফ্রিকার একাধিক দেশে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিম ওরফে ছোটা আনিস, জাভেদ পটেল ওরফে জাভেদ চিকনা এবং ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত টাইগার মেমন এখনও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, মুম্বইয়ে নতুন করে গ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, নতুন সদস্য সংগ্রহ, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডি কোম্পানির ঘনিষ্ঠ শার্প শুটার মুন্না জিঙ্গাদাকে।
তবে এই সমস্ত তথ্য মূলত গোয়েন্দা সূত্রনির্ভর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে সব দাবি নিশ্চিত করা হয়নি। তবুও জাতীয় নিরাপত্তা এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement



