• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 31 July, 2026

হকির জার্সিতে রঙ বদল! বিতর্কে মুখ খুললেন সহ-অধিনায়ক, সদস্যদের কাছে কৈফিয়ৎ তলব ‘হকি ইন্ডিয়া’ সভাপতির

কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের পাঠানো তাঁর প্রথম ই-মেলে দিলীপ তিরকে লিখেছেন— ‘ভারতীয় দলের জার্সির রঙ বদলের সিদ্ধান্ত

হকির জার্সিতে রঙ বদল! বিতর্কে মুখ খুললেন সহ-অধিনায়ক, সদস্যদের কাছে কৈফিয়ৎ তলব ‘হকি ইন্ডিয়া’ সভাপতির

Saffron Jersey Photo-SNS

ভারতীয় হকির নতুন গেরুয়া জার্সি ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। প্রাক্তন অধিনায়ক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের একাংশ— অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সি বদলে গেরুয়া রঙ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে। সেই বিতর্কের মাঝেই প্রথমবার মুখ খুললেন ভারতীয় পুরুষ হকি দলের সহ-অধিনায়ক হার্দিক সিং। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এটি কোনও বিতর্কের বিষয় নয়, বরং দলের পারফরম্যান্সের স্বার্থে নেওয়া একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

আগামী ১৪ অগাস্ট থেকে নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে শুরু হচ্ছে পুরুষ ও মহিলাদের হকি বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টের জন্যই সম্প্রতি নতুন গেরুয়া রঙের জার্সি প্রকাশ করেছে হকি ইন্ডিয়া। জার্সি প্রকাশের পরই শুরু হয় বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ভারতের পরিচিত নীল জার্সি বদলে কেন এই নতুন রং?

এই বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে হার্দিক বলেন, ‘জার্সিগুলো খুব ভালো। আমরা নতুন কিছু চেষ্টা করতে চাই। আমাদের আগের নীল জার্সির রং অনেক সময় নীল অ্যাস্ট্রোটার্ফের সঙ্গে মিশে যেত। তাতে সমস্যা হচ্ছিল। যদি কমলা জার্সি আমাদের সুবিধা দেয়, তাহলে তা পরে মাঠে নামতে অসুবিধা কোথায়? এটা দলের কৌশল, ট্যাকটিক্সেরই অংশ’।

ভারতীয় হকি তারকার মতে, জার্সির রঙের চেয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হল ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা। আমরা চাই দেশের নাম উজ্জ্বল করতে’।

বিশ্বকাপের আগে জার্সি নিয়ে বিতর্ক যতই চলুক, ভারতীয় দলের লক্ষ্য একটাই— মাঠে ফল দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। আর সেই লক্ষ্যেই নতুন জার্সিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে দেখছেন হার্দিক সিং ও তাঁর সতীর্থরা।

এ দিকে জার্সির রঙবদল নিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে হকি ইন্ডিয়া সভাপতি দিলীপ তিরকের এক চিঠির কারণে। হকি ইন্ডিয়ার কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের কাছে চিঠি লিখে তিনি জানতে চেয়েছেন, কোন আভ্যন্তরীণ আলোচনার ভিত্তিতে ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা দলের ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সির পরিবর্তে গেরুয়া রঙের জার্সি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যদিও এর আগে তিরকে এই বিতর্ককে রাজনৈতিক রং না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু এক সর্বভারতীয় নিউজ চ্যানেল দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সভাপতিকে নাকি সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। সেই কারণেই তিনি ফেডারেশনের কর্তাদের কাছে কড়া ভাষায় ব্যাখ্যা চেয়েছেন। কেন কার্যনির্বাহী বোর্ডকে এড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তার অবিলম্বে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ওড়িশা সরকারও এই বিষয়টি নিয়ে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের পাঠানো তাঁর প্রথম ই-মেলে দিলীপ তিরকে লিখেছেন— ‘ভারতীয় দলের জার্সির রঙ বদলের সিদ্ধান্ত কার্যনির্বাহী বোর্ডে কোনো আলোচনা ছাড়াই এবং আমাকে আগে থেকে না জানিয়েই নেওয়া হয়েছে ও কার্যকর করা হয়েছে। গেরুয়া রং নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। তবে জাতীয় দলের পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে জড়িত এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে কার্যনির্বাহী বোর্ডে এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল’।

পরবর্তী একটি ই-মেলে তিরকে ফেডারেশনের কর্তাদের উদ্দেশে পাঁচটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, কোন কর্তৃত্বের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সর্বসমক্ষে ঘোষণা করার আগে কেন কার্যনির্বাহী বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়নি। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও তিনি দাবি করেন।

তবে সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জার্সির রঙ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কারো চাপের মুখে বা কারো নির্দেশে নেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আমাদের খেলোয়াড় এবং কোচদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। অ্যাস্ট্রোটার্ফের রঙ যেহেতু নীল, ফলে নীল জার্সি পরলে খেলোয়াড়দের একে অপরকে স্পষ্টভাবে দেখতে কিছুটা সমস্যা হয়। মাঠে আরো ভালো দৃশ্যমানতা তৈরি করতে এবং খেলোয়াড়রা যাতে সহজে নিজেদের সতীর্থদের চিহ্নিত করতে পারেন, সেই কারণেই এই রঙ বেছে নেওয়া হয়েছে’।