• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 23 September, 2026

তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতার আত্মসমর্পন, মূলস্রোতে ফিরতে চেয়ে আর্জি বাঁকুড়ায়

পুলিশ সূত্রে খবর, জবা এবং নয়নতারা সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্যা ছিল। রামপ্রসাদ ওরফে শচীন বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রিজিওনাল

তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতার আত্মসমর্পন, মূলস্রোতে ফিরতে চেয়ে আর্জি বাঁকুড়ায়

Three Maoists Leader Photo-SNS

মাওবাদী সংগঠন ভেঙে গিয়েছে। আর তারপরই সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে চায় তারা। তাই এবার আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদীদের তিন শীর্ষ নেতা-নেত্রী। বুধবার বাঁকুড়া পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে রাজ্য পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমারের কাছে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করল জবা মাহাতো, নয়নতারা সাহু এবং রামপ্রসাদ মান্ডি নামের ওই তিন মাওবাদী নেতা-নেত্রী আত্মসমর্পণ করেছেন। অস্ত্র ও জঙ্গলের জীবনকে অতীত করে সমাজের মূলস্রোতে ফিরতেই এই আত্মসমর্পণ বলে দাবি করল আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা।

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার ডাক দিয়েছেন। তাই দেশের নানা জায়গায় অভিযান চলছে। এই অভিযানের জেরে কোণঠাসা হয়েছে মাওবাদীরা। এই রাজ্যে গ্রেপ্তারও হয়েছে মাওবাদীদের অন্যতম শীর্ষনেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ। তার পরেই এবার অস্ত্র-সহ আত্মসমর্পণ করল আরও তিনজন। আর তাতেই মনে করা হচ্ছে, এবার মাওবাদীমুক্ত প্রক্রিয়াতেই বড় সাফল্য এসেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, জবা এবং নয়নতারা সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্যা ছিল। রামপ্রসাদ ওরফে শচীন বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রিজিওনাল কমিটির কমান্ডার ছিল। তিনজনই ২০০৬ সালে মাওবাদী সংগঠনে যুক্ত হয়। গত দু’দশকে তাদের বাংলা-সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য মিলিয়ে ৮০টিরও বেশি মামলা আছে। রাষ্ট্রদ্রোহ এবং অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা আছে তাদের বিরুদ্ধে। দু’টি ইনসাস, একটি একে-৪৭ বন্দুক ছাড়াও পুলিশের কাছে ১০টি ম্যাগাজিন এবং ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজ জমা দেয় তিনজন। বন্দুকগুলি এই রাজ্যের পুলিশের কাছ থেকে নানা সময়ে মাওবাদীরা ছিনতাই করেছিল।

আত্মসমর্পণকারী তিন মাওবাদীর দাবি, একদা জঙ্গলমহলের প্রতি বঞ্চনার জেরেই তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। জঙ্গলের জীবন বেছে নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ব্রতী হয়েছিল। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পেরেছে সশস্ত্র বিপ্লব-রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে দাবি আদায়ের পথ ভুল। তাই তারা জঙ্গলের জীবন ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে চায়। রাজ্য পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমার বলেন, ‘আত্মসমর্পণের প্যাকেজের সুযোগ যাতে এই আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা পায় তার জন্য স্ক্রিনিং কমিটির কাছে আবেদন জানাবে রাজ্যের পুলিশ।’ অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে নতুন করে জীবনযাপন করতে চায় তারা। আর এই কাজে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা সাহায্য করুক চায় তারা।