বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা শূন্যপদগুলি পূরণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। এই লক্ষ্যে ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত সরকারি বিভাগের কাছে খালি পদের সুনির্দিষ্ট হিসেব বা ‘ভ্যাকেন্সি স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ তলব করেছে অর্থ দপ্তর।
রাজ্য প্রশাসনকে আরও গতিশীল করে তুলতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতেই এই পদক্ষেপ শুভেন্দু অধিকারী সরকারের। উল্লেখ্য, রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরেই কোনও স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। অভিযোগ, কিছু অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করেই কাজ চালিয়েছে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। বিরোধী পক্ষে থাকাকালীন বিজেপি বারবার অভিযোগ করেছে, রাজ্য বহু শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ করছে না মমতা সরকার।
Advertisement
প্রধান সচিব, অতিরিক্ত প্রধান সচিব এবং সচিবদের উদ্দেশ্যে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের অধিকাংশ দপ্তরেই দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু পদ শূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং কাজের দক্ষতা বাড়াতে এই পদগুলি দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। সেই কারণেই শূন্যপদের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এই সামগ্রিক পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরকে ১ মে পর্যন্ত তাদের অধীনে থাকা খালি পদের একটি সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। অর্থ দপ্তরের নির্দেশ, অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে ডিজিটাল মাধ্যমে। একটি এক্সেল স্প্রেডশিটের পৃথক তিনটি শিটে যথাক্রমে মূল দপ্তর, ডিরেক্টরেট অফিস এবং আঞ্চলিক অফিসগুলির শূন্যপদের বিবরণ আলাদা আলাদা করে উল্লেখ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, অর্থ দপ্তরের দেওয়া এই এক্সেল ফরম্যাটের মূল নকশায় কোনওরকম রদবদল করা যাবে না।
এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে যে সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করার প্রস্তাব দেওয়া হবে, তার সপক্ষে উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত যুক্তি বা কারণ দেখাতে হবে। কখনওই দায়সারাভাবে কোনও রিপোর্ট পাঠানো যাবে না। ৩ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান বা নোডাল অফিসারের অফিশিয়াল ইমেল আইডি থেকে অর্থ দপ্তরের নির্দিষ্ট দু’টি ইমেলে এই সফট কপি পাঠাতে হবে। নবান্নের তরফে এই নির্দেশিকাকে ‘অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, রাজ্যজুড়ে কর্মসংস্থানের খরা কাটাতে এবং সরকারি কাজে গতি আনতে নবান্নের এই তৎপরতা।
Advertisement



