• facebook
  • twitter
Friday, 22 May, 2026

মন্ত্রীসভা গঠনে চূড়ান্ত তৎপরতা, দিল্লিতে বৈঠকে শমীক, শুভেন্দুরা

মোদীর ছাড়পত্রের অপেক্ষায় বিজেপি

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠন নিয়ে রাজধানী দিল্লিতে তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। সূত্রের খবর, মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের বিষয়টি কার্যত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সবুজ সংকেত মিললেই নতুন মন্ত্রীসভার নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

বাংলায় সরকার গঠনের পর থেকেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা নিয়ে বিজেপির অন্দরমহলে আলোচনা চলছিল। এবার সেই আলোচনা দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে একদফা বৈঠক করেন। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতেই দিল্লি পৌঁছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সকালে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

Advertisement

সূত্রের দাবি, এই বৈঠকগুলিতে বাংলার মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য রূপরেখা, দপ্তর বণ্টন এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না শমীক ভট্টাচার্য বা শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বও বাংলার মন্ত্রীসভা গঠন নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করছে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বিজেপি নেতৃত্ব কোনও রকম বিতর্ক বা জল্পনা বাড়াতে চাইছে না।

Advertisement

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সংগঠনের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই কারণেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশলের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব চাইছে, সরকার এবং সংগঠনের মধ্যে যেন কোনও দূরত্ব তৈরি না হয়।

মন্ত্রীসভা গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে— সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য। কোন জেলা বা অঞ্চলের কতজন প্রতিনিধি মন্ত্রীসভায় থাকবেন, কারা প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে পারবেন এবং কোন মুখ রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে— সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দপ্তর বণ্টনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিজেপি। কোন দপ্তরে কাকে দায়িত্ব দিলে সরকারের কাজের গতি বাড়বে এবং রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেই সূত্রের দাবি।

শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই অমিত শাহ এবং রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই সব আলোচনার পরেই বাংলার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। এটি রাজ্যে বিজেপির আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশলেরও প্রতিফলন হতে চলেছে। নতুন মন্ত্রীসভায় কারা জায়গা পান, তা থেকেই বোঝা যাবে বিজেপি কোন সামাজিক সমীকরণ, কোন অঞ্চল এবং কোন রাজনৈতিক বার্তাকে সামনে রেখে এগোতে চাইছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রীসভা শুধু প্রশাসনের চালচিত্রই তৈরি করবে না, বরং দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির দিকও নির্ধারণ করবে। তাই অত্যন্ত হিসাব কষেই এগোচ্ছে বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব।

Advertisement