প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পঞ্চায়েত, খাদ্য এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের একাধিক প্রকল্পে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই সব ঘটনায় মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে দ্রুত তদন্ত শুরু করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
Advertisement
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে আবাসন প্রকল্প নিয়ে। নবান্নের পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য উপভোক্তাদের অনেকেই সরকারি ঘর পাননি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বহু অযোগ্য ব্যক্তি আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বেআইনিভাবে ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করতে হবে। পাশাপাশি যে সব পঞ্চায়েত আধিকারিক ও সরকারি কর্মী যাচাই না করেই অনুমোদন দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
রেশন দুর্নীতির ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত ব্যক্তি বা ভুয়ো রেশন কার্ডের নামে দীর্ঘদিন খাদ্যসামগ্রী তুলে তা কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এই ঘটনায় শুধু চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই নন, খাদ্য দপ্তরের যে সব ইন্সপেক্টর বা আধিকারিক চোখ বন্ধ করে ফাইল পাশ করিয়েছেন, তাঁদেরও রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পেও বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একাধিক এলাকায় নিম্নমানের পাইপ বসানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই সাইট পরিদর্শন না করেই বিল পাশ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের পর প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সাধারণত দুর্নীতির ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত বা সাসপেনশনের পথ নেওয়া হলেও, এবার সরাসরি আমলা ও সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব না দেখে সরাসরি আইনি পথে হাঁটার বার্তাই দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Advertisement



